শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তরুণীকে শেকলে বেঁধে নির্যাতনে গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৯ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তরুণীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন ভুক্তভোগী তরুণীর বর্তমান প্রেমিক সান এবং তার দুই বন্ধু হিমেল, রকি এবং সালমা ওরফে ঝুমুর। পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর সঙ্গে ব্যারিস্টার মাসুদ নামের এক আইনজীবীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাসুদের অনুপস্থিতিতে সান নামের এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোয় ক্ষিপ্ত হন মাসুদ। প্রতিশোধ নিতে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে সান ও তার বন্ধুদের দিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে শিকলে বেঁধে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালায়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচএম আজিমুল হক এ তথ্য জানায়। এর আগে গত রবিবার রাতভর টানা অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ডিসি এইচএম আজিমুল হক বলেন, বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ এবং পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করায় ওই তরুণী তার বড় বোনের বাসায় থাকতেন। সে সময় ভগ্নিপতির মাধ্যমে মাসুদ নামের এক আইনজীবীর সঙ্গে পরিচয় হয়। মাসুদের সঙ্গে লিভটুগেদার করতেন ওই তরুণী। মাসুদ বেশিরভাগ সময় বিদেশে থাকতেন। দেশে এলে ওই তরুণীর সঙ্গে থাকতেন। পরে মাসুদের মাধ্যমে এক প্রবাসীর স্ত্রী সালমা ওরফে ঝুমুরের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। একপর্যায়ে সালমার সঙ্গে নবীনগরের ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠেন ওই তরুণী। যার সব খরচ বহন করতেন মাসুদ। পরে ঝুমুরের মাধ্যমে সান নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাসুদ।

পরে মাসুদ ভুক্তভোগী তরুণীকে শায়েস্তা করতে তার বর্তমান প্রেমিক সানের সঙ্গে হাত মেলান। সালমাকে দিয়ে তাদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মাসুদের নির্দেশনায় কাজ করায়। তরুণীর রুমে বসানো হয় গোপনীয় ক্যামেরা। বিভিন্ন সময় সান ও তার বন্ধু হিমেল ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার দৃশ্য গোপনে ধারণ করে পাঠানো হতো মাসুদের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবে ভিডিও পাঠাতেন।

পুলিশ জানায়, গোপনে ভিডিও করার বিষয়টি ভুক্তভোগী তরুণী জেনে যাওয়ায় তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। শুরু হয় শিকলে বেঁধে নির্যাতন। হাত-পা ও মুখ বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালাতেন সান ও তার বন্ধুরা। যার প্রতিটি মুহূর্ত ভিডিও ধারণ করে পাঠানো হতো মাসুদের কাছে।

ডিসি আজিম বলেন, গত ২৯ তারিখ রাত ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তরুণীকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় তরুণীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ভুক্তভোগী তরুণী ঘুমিয়ে গেলে বাহরে যান সালমা, সান ও অন্যরা। কিছুক্ষণ পর ভুক্তভোগীর ঘুম ভেঙে গেলে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে চিৎকার দিলে পথচারীরা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে নবীনগরের একটি বহুতল ভবনের চারতলা থেকে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী তরুণীকে নির্যাতনের বেশিরভাগ ভিডিও ও ছবি সালমার মোবাইলে। কিন্তু তিনি মোবাইলটি লুকিয়ে ফেলেছেন। সেটি পেলে পৈশাচিক নির্যাতনের আসল তথ্য ও ভিডিওর গন্তব্য সম্পর্কে জানা যাবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত