সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তেলবাহী লরি উল্টে আগুন ছড়াল ৫ গাড়িতে মৃত্যু ৩, দগ্ধ ৬

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০০ এএম

সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ইউটার্ন নির্মাণের জন্য সড়ক দখল করে রাখা সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় একটি তেলবোঝাই লরি। এ সময় লরিটিতে আগুন জ¦লে উঠলে তা পাশে এবং পেছনে থাকার একটি প্রাইভেট কারসহ আরও পাঁচটি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের লেবার ইকবাল হোসেন। এ ছাড়া দগ্ধ আরও আটজনকে উদ্ধার করে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দগ্ধদের কেউ ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোড়পুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোড়পুল এলাকায় ইউটার্নের জন্য রাস্তার ওপর সাজিয়ে রাখা সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে তেলবোঝাই লরির ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এ সময় লরিটিতে আগুন লেগে গেলে সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যে পেছনে থাকা চারটি ট্রাক ও একটি প্রাইভেট কারে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রথমে সাভার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় পরে হেমায়েতপুর ট্যানারি শিল্প এলাকার দুটি ইউনিট ও রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। পরে ছয়টি ইউনিটের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পর নজরুল ইসলাম (৪৫) নামে একজন মারা গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। রাতে মারা যান ট্রাকচালক হেলালউদ্দিন (৩০)। তার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ছোট গড়িচান্না গ্রামে। এ দুজনের শরীর শতভাগ পুড়ে গিয়েছিল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি ছয়জন হলেন সিমেন্টের ট্রাকের লেবার বরিশালের বাকেরগঞ্জের মিলন মোল্লা (২২), বরগুনার মীম (১০), আল-আমিন (৩৫), নিরঞ্জন (৪৫), রাজশাহীর আব্দুস সালাম (৩৫) ও সাকিব (২৪)। তাদের মধ্যে মিলন মোল্লার শরীরের ৪৫, শিশু মীমের শরীরের ২০, আল আমিনের ১০, নিরঞ্জনের ৮, আব্দুস সালামের ৫ শতাংশ ও হেলপার সাকিব শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সকালে সাভারে লরি উল্টে অগ্নিকা-ে হাসপাতালে আটজন দগ্ধ রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম নামে একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছেন। দগ্ধদের মধ্যে হেলাল ও সাকিব নামে দুজনের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় ১০ বছরের শিশু মীম ও মিলন মোল্লাও শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘দগ্ধদের কেউ শঙ্কামুক্ত নয়। আর এসব ক্ষেত্রে আমরা একটা কথা সবসময় বলি, বাড়ি ফেরা না পর্যন্ত এসব রোগীকে শঙ্কামুক্ত বলা যাবেও না।’

সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো পানির উৎস না থাকায় আগুন নির্বাপণে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ছয়টি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নির্বাপণ করা হয়। তবে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা তানিন ফার্নিচারের একটি কারখানায় পানির জন্য গেলে তারা সহযোগিতা করেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তাদের কারখানায় অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই, এমনকি পানির কোনো উৎসও নেই। এ ঘটনায় আমরা কারখানাটিকে নোটিস করেছি। ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই কারখানাটিতে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান। এসব কারখানায় আগুন লাগলে শতভাগ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তানিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান এই কর্মকর্তা।

সাভার হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত তেলের লরির চালক, হেলপার ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত