শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গাছ কেটে র‌্যাম্প নির্মাণ না করতে গণপূর্তমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০১ পিএম

গাছ না কেটে এবং দ্বিতল সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট করে টাইগারপাস মোড়ে র‌্যাম্প (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠার পথ) নির্মাণ না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনার বিষয়টি স্বীকার করে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘গণপূতীমন্ত্রী ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে টাইগারপাস মোড়ে কোনো গাছ না কাটা পড়ে। পরিবেশ ধংস করে সিডিএ কোনো প্রকল্প যাতে বাস্তবায়ন না করে।’

তিনি আরো বলেন, টাইগারপাস মোড়ের র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত। পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে পরিবেশকে অক্ষত রেখে করা গেলে র‌্যাম্প নির্মিত হবে অন্যথায় তা বাতিল হবে।

এর আগে নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামকরণ করা হয়েছে সেই প্রকল্পের আওতায় টাইগারপাস মোড়ে একটি র‌্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। স্টেশন রোড থেকে আগত গাড়িগুলো পতেঙ্গামুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে উঠার জন্য এই র‌্যাম্পটি ব্যবহৃত হতো। কিন্তু এতে টাইগারপাস এলাকার শতবর্ষী গাছসহ ৪৬টি ছোটো বড় গাছ কাটা পড়তো। কিন্তু চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ এই গাছ কাটার বিরোধিতা করে। 

একইসাথে চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক দ্বিতল সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট করা যাবে না বলে আন্দোলন কর্মসূচী দেয়। আন্দোলনের মুখে সিডিএ বিদ্যমান নকশা থেকে সরে এসে নকশা পরিবর্তন করা হবে বলে জানায়। আর এখন নির্দেশনা দিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীও। সিআরবি ও টাইগারপাস এলাকার শতবর্ষী গাছগুলো চট্টগ্রামবাসীর আবেগ। সিআরবিতে ইউনাইটেড হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে একটানা ৪৮০ দিন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে ছিল চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ। 

উল্লেখ্য, ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায় লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আওতায় নির্মিত হচ্ছে ১৫টি র‌্যাম্প (উঠা-নামার রাস্তা)। এই ১৫টি র‌্যাম্পের একটি হলো টাইগারপাস দিয়ে উঠার র‌্যাম্পটি। আগামী মাসের শেষের দিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতে পারে। 

প্রধান অংশের কাজের মধ্যে শুধুমাত্র টাইগারপাস মোড় থেকে লালখান বাজার অংশের কাজ কিছু বাকি রয়েছে। গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। এটি নির্মাণ হওয়ায় মুরাদপুর থেকে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার হয়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে নগরবাসী পতেঙ্গা চলে যেতে পারবে। বিভিন্ন স্থানে উঠা নামার জন্য র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে যা আগামী বছর পর্যন্ত চলবে। 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত