রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খেলাপি ধরতে পৃথক ইউনিট গঠনের নির্দেশ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৩৯ এএম

ব্যাংকের মতো এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত করতে পৃথক ইউনিট গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছর ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এ ইউনিট গঠন করতে হবে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শনাক্ত হওয়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা কোনো রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বা সম্মাননা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। এ ছাড়া তাদের বিদেশ ভ্রমণ, ট্রেড লাইসেন্স, পুঁজিবাজার ও আরজেএসসিতে কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্তকরণের পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের তালিকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই তালিকা গাড়ি, জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদির নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক কোম্পানি কর্তৃক কোনো ঋণগ্রহীতাকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণ পরিশোধপূর্বক ওই তালিকা থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন না।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি হওয়ার পর ওই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা কি না, তা শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সেগুলো হলো খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্তকরণসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনে ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত দুই ধাপ নিচের কর্মকর্তার অধীনে প্রধান কার্যালয়ে ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্তকরণ ইউনিট’ নামে একটি পৃথক ইউনিট গঠন করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৩-এ প্রদত্ত ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংজ্ঞা মোতাবেক ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক তাদের কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা কি না, তা শনাক্ত করতে হবে। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ওই ঋণগ্রহীতা ইচ্ছাকৃত খেলাপি কি না, তা নিরূপণের লক্ষ্যে ফাইন্যান্স কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ইউনিট কর্তৃক পর্যালোচনাপূর্বক শনাক্ত করতে হবে। তবে যৌক্তিক কারণে বর্ণিত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব না হলে ফাইন্যান্স কোম্পানির এমডি বা সিইওর অনুমোদনক্রমে ওই সময় আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে।

কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে শনাক্ত হলে শনাক্তকরণের কারণ উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে তার বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ১৪ কর্মদিবস সময় প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে অথবা ঋণগ্রহীতার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হলে বা না হলে ফাইন্যান্স কোম্পানির এমডি বা সিইওর অনুমোদন নিয়ে ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্তকরণ ইউনিট’ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তবে জাতীয় শিল্পনীতিতে বর্ণিত সংজ্ঞানুযায়ী বৃহৎ শিল্প খাতের ৭৫ কোটি ও তদূর্ধ্ব, ‘মাঝারি শিল্প’ খাতের ৩০ কোটি ও তদূর্ধ্ব এবং অন্যান্য খাতের ১০ কোটি ও তদূর্ধ্ব স্থিতিসম্পন্ন ঋণের ক্ষেত্রে ফাইন্যান্স কোম্পানির নির্বাহী কমিটির পরিচালক পর্ষদের অনুমোদন গ্রহণ আবশ্যক হবে।

ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে চূড়ান্তকরণের পর সংশ্লিষ্ট ঋণ গ্রহীতাকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে অবহিত করতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে চূড়ান্তকরণের বিষয়টি গ্রাহক কর্তৃক অবহিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওই বিষয়ে অবহিত হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের কাছে আপিল করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করলে এ বিষয়ে ফাইন্যান্স কোম্পানির আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। তবে সংক্ষুব্ধ ঋণগ্রহীতা কর্তৃক আপিল করা হলে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত