শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লোডশেডিংয়ে বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক 

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:২৪ পিএম

গত কয়েক দিন ধরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমির বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে কৃষক। 

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছেন, নাঙ্গলকোট উপজেলায় বিদ্যুৎ গ্রাহক ১ লাখ ৪০ হাজার। এ গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ৩২ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই এলাকাভিত্তিক সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এক এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘণ্টায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে অন্য এলাকায় দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুর আদ্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে অতিরিক্ত লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। এতে করে সেচ পাম্পগুলো ঠিকমতো চালাতে পারছেন না কৃষকরা। তাই বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় তারা। এ সময়ে জমিতে পানি না থাকলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউপি গোমকোট গ্রামের কৃষক সাগর মজুমদার বলেন, বোরো ধান  আমাদের প্রধান হাতিয়ার। বর্তমানে ধানের ছড়া বাহির হওয়ার সময় হয়েছে। এ মুহূর্তে সব সময় জমিতে পানি রাখতে হবে। পানি না থাকলে ধান চিটা হয়ে যাবে। গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। পুরো দিনে ৩০ শতক জমি পানি দিতে পারি না। এ নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি। 

নাঙ্গলকোট বাজার ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, নাঙ্গলকোট পৌর বাজারে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। এভাবে হলে আমরা কীভাবে ব্যবসা করি? দিন শেষে রাতে বাড়িতে গিয়ে এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট হয়। 

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ইসমাইল ভূঁইয়া দেশ রূপান্তর’কে বলেন, কুমিল্লা আঞ্চলে গত বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয় ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়া। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের আদ্রতা বেড়েছে ৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এ বায়ুমন্ডলের আদ্রতার কারণে গরমে অতিষ্ঠতা দেখা দিয়েছে। এ সময় বিদ্যুৎতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। সামনে তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে। 

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম কামাল পাশা বলেন, কুমিল্লা ও ফেনী গ্রেড থেকে নাঙ্গলকোটে বিদ্যুৎ আসে। আর এ নাঙ্গলকোটে ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎতের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে পাচ্ছি ১০-১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এই দুর্ভোগ কমাতে। 

নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তর’কে বলেন, এ সময় বোরো ধানের জমিতে পানি না থাকলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই পল্লী বিদ্যুৎতের ডিজিএম এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলা হয়েছে যাতে রাতের বেলায় লোডশেডিং একটু কম করে। পাশাপাশি জমিতে নিয়মিত ছত্রাক নাশক ঔষধ ব্যবহর করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। 

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ ৪ এর জিএম মো. জাকির হোসেন দেশ রূপান্তর’কে বলেন, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ-৪ এর আওতায় ৩ লাখ গ্রাহক রয়েছে। তাদের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে ৭২ মেগাওয়াট। বর্তমানে আমরা পাচ্ছি ৩৫-৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই একটু লোডশেডিং হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে এ লোডশেডিং আর থাকবে না। গরম বেড়ে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য কাজ করছি। 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত