দায়িত্ব নিয়েই টেন্ডার বিতর্কে রংপুর মেডিকেলের অধ্যক্ষ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩১ পিএম

রংপুর মেডিকেল কলেজে গত ১ এপ্রিল নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ পান অধ্যাপক ডা. শাহ মো. সারোয়ার জাহান। পরের দিন সকালে যোগদান করেন। এর পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেন বিদায়ি অধ্যক্ষের আমলে দুর্নীতিবাজ হল সুপার ডা. আবু হানিফ পাভেল। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেন্ডারে ৩ টা প্যাকেজে মোট ৯৩ লাখ টাকার বই, রিয়াজেন্ট ও স্টেশনারি আইটেম কেনার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। গত অধ্যক্ষর আমলে রেখে যাওয়া বিতর্কিত এই টেন্ডার বেনামে নিজের করে নিতে পাভেল উঠেপড়ে লাগেন। এরই অংশ হিসাবে যোগদানের ১ দিনের মাথায় বিনা নোটিশে সার্জারি বিভাগের ডাক্তার আবু হানিফ পাভেলকে নিয়ে মেডিকেলের টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ শুরু করেন নতুন অধ্যক্ষ। এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নয়ছয়ের অভিযোগ আগেই রয়েছে ডা. পাভেলের বিরুদ্ধে। 

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ সারোয়ার জাহান ও ডা. পাভেল। অধ্যক্ষ সারোয়ার জাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৯৩ লাখ টাকার ওই টেন্ডার স্থগিত করা হয়েছে। 

ডা. পাভেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, টেন্ডার নিয়ে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা মেডিকেলের আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের জের। তিনি বলেন, ৯৩ লাখ টাকার টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি আমি। সম্প্রতি মূল্যায়ন কমিটি নতুন অধ্যক্ষ নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বসেছি। মূল্যায়ন কমিটি কাজটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, বিদায়ি অধ্যক্ষ অবসরে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার জমাদান কারীদের কাগজ ভেরিফিকেশনের জন্য সকল কোম্পানিকে চিঠি দিলে তাতে বিভিন্ন অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। টেন্ডারে অর্থ আত্মসাতের জন্য কোনো এক কোম্পানির নাম ও প্যাড ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে টেন্ডার জমা দেয়া হয় সেই সত্যতাও মেলে। কোম্পানি পরে চিঠি দিয়ে জানায় তারা কোনো টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেনি। 

এসব অনেক অসংগতি পাওয়ায় টেন্ডার কার্যক্রম বন্ধ রাখেন বিদায়ি অধ্যক্ষ। কিন্তু নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ পাওয়া মাত্রই, ডিডিওশীপ আসার আগেই তিনি ডা. আবু হানিফ পাভেলকে নিয়ে অসংগতি থাকা টেন্ডার কার্যক্রমই শুরু করে বির্তকের জন্ম দেন।

এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়াটি বোঝার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা মূল্যায়ন কমিটির সঙ্গে সভা করেছি। সেই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই টেন্ডার বাতিল করার। ফলে এই নিয়ে আর কোনো কথা তো চলে না। 

মেডিকেল সূত্র আরও জানায়, ডা. আবু হানিফ পাভেল গত অধ্যক্ষের আমলে হোস্টেল সুপারের দায়িত্ব পালন করেন। সেই সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত নিম্ন মানের খেলার সামগ্রী শহরের চুড়িপট্টি থেকে কিনে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অনেক অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও আছে ডা. পাভেলের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগে ও তার অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে ছাত্র কর্মচারী ইউনিয়নসহ সকলের আন্দোলনে ডা. পাভেল হলসুপার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতেও বাধ্য হন। 

এ প্রসঙ্গে ডা. পাভেল বলেন, ক্রীড়া সামগ্রী কেনার যে অভিযোগ আমার নামে এসেছে সেখানে কোনো দালিলিক কাগজ পত্রে আমার নাম বা স্বাক্ষর রয়েছে? হলসুপারের দায়িত্ব নিজের ব্যক্তিগত কারণে ছেড়ে দিতে আবেদন করেছি। 

মেডিকেল সূত্র দাবি করে, পাভেলকে নিয়ে নতুন অধ্যক্ষ নয়ছয়ের কাজগুলো নতুন করে শুরু করায় রংপুর মেডিকেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত