নেপিদোর সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১২ এএম

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে ড্রোন হামলা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয় নানা সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রাজনীতিক-আইনপ্রণেতাদের দ্বারা গঠিত ছায়া সরকারের সঙ্গে চলতি লড়াইয়ের মধ্যে এই প্রথম ড্রোন হামলার শিকার হলো দেশটির সামরিক শাসকদের প্রধান শহর। গত কয়েক মাস ধরে জান্তা সরকার বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আক্রমণে বেশ চাপের মুখে রয়েছে জান্তা। এর মধ্যে এই হামলা জান্তার জন্য বড়সড় চ্যালেঞ্জ।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে অং সান সু চির অনুগামী রাজনীতিক ও আইনপ্রণেতারা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) গঠন করে। নেপিদোতে হামলাটি চালিয়েছে এই এনইউজির সশস্ত্র সংগঠন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)। এনইউজি জানিয়েছে, বিস্ফোরকভর্তি ২৯টি ড্রোন নেপিদোর বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও সেনাসদরে হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এনইউজি হচ্ছে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সদস্য যারা সর্বশেষ বেসামরিক সরকারের অংশ ছিলেন।

এদিকে হামলা সম্পর্কে জান্তার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ড্রোনগুলো ভূপাতিত করেছে। তবে একটি রানওয়েতে এসে আছড়ে পড়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

মিয়ানমারের সামরিক শাসন জারির পর গণতন্ত্রপন্থিরা লাগাতার আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু জান্তার অনুগত নিরাপত্তা বাহিনী সেই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় তাকা পিডিএফ যোদ্ধাদের নির্মূল করতে বেসামরিক লক্ষ্যে হামলা চালাচ্ছে জান্তা। এর জবাবে জাতিগত বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করছে পিডিএফ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তিন বছরের গৃহযুদ্ধে মিয়ানমারে ২৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং নিহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

পিডিএফের জন্য নেপিদোর হামলাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য। কারণ এর আগে এই ধরনের কোনো ঘটনা দেখা যায়নি। তা ছাড়া শহরটিকে সামরিক বাহিনী নিজেদের শক্তি কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরে। পুরনো শহর ইয়াঙ্গুনকে প্রতিস্থাপন করে আধুনিক ও পরিকল্পিত হিসেবে এই শহর গড়ে তোলা হয়। এতে সামরিক বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তা রয়েছে। গত সপ্তাহে এই শহরের দেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কুচকাওয়াজ হয়েছে।

হামলার পর গতকাল বৃহস্পতিবার এনইউজি সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি মগ মগ সুয়ে বলেন, কয়েকটি প্রতিরক্ষা গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা ও কৌশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত