লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪৩ এএম

গত কয়েক দিন ধরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমির বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ৩২ মেগাওয়াট। এ চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এলাকাভিত্তিক সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এক এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে পরের ঘণ্টায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য এলাকায় লোডশেডিং দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুর আদ্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। সেইসঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। পুরো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে তিন থেকে চার ঘণ্টা। এতে করে সেচ পাম্পগুলো ঠিকমতো চালাতে পারছেন না। তাই বোরো ধান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। এ সময়ে জমিতে পানি না থাকলে ধান চিটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ঈদ ঘিরে মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভিড় চলছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ক্রেতারা দোকানে আসতে চায় না। এ নিয়ে দোকান মালিকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। লোডশেডিং নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউপির গোমকোট গ্রামের কৃষক সাগর মজুমদার বলেন, বোরো ধান আমাদের প্রধান ফসল। বর্তমানে ধানের মজিগুলো থেকে চড়া বের হওয়ার সময়। এ মুহূর্তে সব সময় জমিতে পানি রাখতে হবে। পানি না থাকলে ধান চিটা হয়ে যাবে। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। পুরো দিনে ৩০ শতক জমি পানি দিয়ে ভাসাতে পারি না। এ নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি।

নাঙ্গলকোট বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, পৌর বাজারে বিদ্যুৎ আসে আর যায়। এভাবে হলে আমরা কীভাবে ব্যবসা করি? দিন শেষে রাতে বাড়িতে গিয়ে এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না। গরমে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্ট হয়।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম কামাল পাশা বলেন, কুমিল্লা ও ফেনী গ্রেড থেকে নাঙ্গলকোটে বিদ্যুৎ আসে। আর এ নাঙ্গলকোটে ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে পাচ্ছি ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তাই লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এই দুর্ভোগ কমাতে।

অন্যদিকে, গরম শুরু হতে না হতেই প্রচ- লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁবাসী। সোনারগাঁয়ের একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়বার লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। দিন ও রাতে বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সাহরি, ইফতার ও তারাবির নামাজের সময় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

প্রতিবার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ছোট  ছোট শিল্প কারখানা তাদের উৎপাদন নিয়ে বিপাকে পড়ছে।

সোনারগাঁ পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, একদিকে প্রচ- গরম পড়ছে, অন্যদিকে সীমাহীন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের অবস্থা নাকাল। কিছুক্ষণ পরপরই লোডশেডিং হওয়ার কারণে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) ঐক্যতানে দিলশাদ জানান, সোনারগাঁয়ে চাহিদা অনুযায়ী ১০০ ভাগের মধ্যে বর্তমানে ৭০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৩০ ভাগ বিদ্যুতের ঘাটতির জন্য এ লোডশেডিং হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত