হাশরের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাত শ্রেণির লোক আরশের ছায়ায় স্থান পাবেন। তারা হবেন বড়ই সৌভাগ্যবান। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক হাদিসে উম্মতকে এই সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহতায়ালা তার আরশের ছায়ায় সাত শ্রেণির ব্যক্তিকে স্থান দেবেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসের আলোকে তাদের আলোচনা তুলে ধরা হলো।
এক. এমন ন্যায়পরায়ণ শাসক, যে তার অধীনস্তদের মধ্যকার সব বিষয়ের সুষ্ঠু সুরাহা করে। ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করে এবং সর্বক্ষেত্রে ইনসাফের সঙ্গে কার্য পরিচালনা করে।
দুই. এমন যুবক, যে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগির ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠেছে। অর্থাৎ যৌবনকালে যারা ইবাদত বন্দেগিতে মনোনিবেশ করে, গুনাহ করার শক্তি ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যারা আল্লাহর ইবাদতে সময় পার করে।
তিন. এমন ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে ঝুলন্ত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি এক নামাজের পর অন্য নামাজের অপেক্ষায় থাকে। দুনিয়াবি কাজকর্মের ঝামেলা তাকে নামাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না। বরং নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে ওয়াক্ত আসার অপেক্ষা করতে থাকে।
চার. এমন দুই ব্যক্তি, যারা একে অপরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ভালোবাসে, তার জন্যই একত্র হয় এবং প্রয়োজনে আবার তার জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়। তারা এই ভালোবাসার মধ্যে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ তালাশ করে।
পাঁচ. এমন ব্যক্তি, যাকে কোনো অভিজাত ও সুন্দরী নারী অপকর্মের দিকে ডাকে, কিন্তু সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির ভয়ে অপকর্ম থেকে দূরে থাকে। আর বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।
ছয়. এমন ব্যক্তি, যে অতি গোপনে দান-সদকা করে। এমনভাবে দান করে, যেন বাম হাত জানতে না পারে ডান হাত কী খরচ করেছে।
সাত. এমন ব্যক্তি, যে নীরবে মহান আল্লাহকে স্মরণ করে। তার হুকুম আহকাম মোতাবেক জীবনযাপন করে। আল্লাহর ভয়ে তার চোখ অশ্রুসজল থাকে।
