সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিএনপির মাথাব্যথার কারণ নেই : কাদের

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২২ এএম

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিয়ে বিএনপির মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘এ দেশের যত দিন নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতে থাকবে, তত দিন স্বাধীনতা নিরাপদ, সার্বভৌমত্ব নিরাপদ ও গণতন্ত্র নিরাপদ থাকবে। এ কথা আমি গভীর বিশ্বাস ও প্রত্যয়ের সঙ্গে বলতে চাই।’

গতকাল শনিবার মতিঝিলে যুবলীগের আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে পত্রিকায় তাকালেই দেখি ফখরুলের বক্তব্য দেশে ভয়াবহ এক অবস্থা বিরাজ করছে। কোথায়? বাংলাদেশে একটা লোকও না খেয়ে মরেছে? কষ্ট আছে, সংকট আছে কিন্তু ভয়াবহ কোনো সংকট এখানে নেই। দুনিয়ার অনেক দেশের চেয়ে আমরা ভালো আছি। আশা করি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ সংকট কেটে যাবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা কত মানবিক নেতা হলে আওয়ামী লীগকে ইফতার পার্টি না করে ইফতারসামগ্রী গরিবের মধ্যে বিতরণ করে দিতে বলেছেন। বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে ইফতার পার্টি করে সেখানে আওয়ামী লীগের গিবত করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব গিলে খাবে। এই দল ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র গিলে খাবে। ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা গিলে খাবে। গোটা বাংলাদেশ গিলে খাবে। তাই এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। সাবধান থাকবেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির গলার জোর ও মুখে বিষ। এ ছাড়া বিএনপি শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। শক্তি কমে গেছে। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।

একই দিন সকালে সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাসেক দুই প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কে নির্মিত একটি রেল ওভারপাস, সাতটি ওভারপাস ও একটি সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি বান্দরবানের কুকি-চিন নিয়ে কথা বলেন।

পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ে যৌথ অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা। এখানে গোটা পাহাড় অশান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। চীন ও ভারত সীমান্তের কাছে চীন স্টেট নামে একটা স্টেট আছে। ওখানে কেএনএফের একটি ঘাঁটি আছে বলে মনে করা হয়। তাদের সঙ্গে আগে আলোচনা হলেও কেন তারা বিদ্রোহ করল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে যৌথ অভিযান চলছে। যদি বাইরের কারও সাপোর্ট থাকে ইউপিডিএফ, সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি বললে আলাদা কথা। এই ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে কে সমর্থন দেবে? সংক্ষুব্ধ হয়ে তারা এটি করতে পারে।’

মিজোরামে বম জনগোষ্ঠী থাকার প্রসঙ্গ সাংবাদিকরা তুললে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মিজোরামের সঙ্গে সম্পর্ক আছে ঠিক জানি না। সীমান্ত থেকে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন এদের মদদ দেবে এটা আমরা মনে করি না। এখন তদন্ত চলছে। সব সত্যই বেরিয়ে আসবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত