ঢাকায় ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’ গড়ে তুলতে হবে : ফখরুল

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৫ এএম

সরকার হটানোর আন্দোলনে ঢাকায় ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’ গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ঢাকা মহানগরের উদ্দেশ্যে দুই-একটি কথা বলতে চাই। ঢাকা মহানগর হচ্ছে কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের সমস্ত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকা। এখানে সরকারকে পরাজিত করতে হবে। সেই কারণে ঢাকা মহানগরের দায়িত্ব অনেক বেশি। মহানগরের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করব, ঢাকাকে সেভাবে গড়ে তোলেন, যেন ঢাকা দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়। এই দুর্গ যেন কেউ ভাঙতে না পারে। সেভাবে আমাদের এখানে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।’ গতকাল শনিবার ইস্কাটন গার্ডেনের লেডিস ক্লাবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। এতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার কয়েক সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। ইফতারের আগ মুহূর্তে লন্ডন থেকে তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ কত কষ্টে আছে। কয়েকদিন আগে ঠাকুগাঁওয়ে গিয়েছিলাম। দেখেছি তারা ভয়াবহভাবে দুঃখ-কষ্টে জীবনযাপন করছে। অথচ তাদের মুখে কিন্তু কোনো হতাশার ছাপ নেই। এত অত্যাচার নির্যাতনের পরেও তারা সুন্দর আছে, দৃঢ়চেতা আছে। আমাদের তারা বলেছে, আপনারা সঠিক নির্দেশনা, কর্মসূচি দেন। আমরা আবার সামনের দিকে এগিয়ে আগেকার মতো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারব। এখন সবেচেয়ে সংগঠনের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। শত্রুকে পরাজিত করার কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এই আন্দোলন বিএনপির আন্দোলন নয়, জাতিকে রক্ষা করার আন্দোলন, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের-ভাইদের গুম করে দিয়েছে। ১২/১৩ বছর হয়ে গেছে এখনো আমরা তাদের খবর জানি না। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। ২৮ অক্টোবরের সমাবেশের পর দুদিনের মধ্যে ৩৭ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বড় বিজয়ের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে সক্ষম হননি। দীর্ঘকাল লেগেছে তার এই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবার জন্য। একদিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি সব জায়গায়। আজ ফেরাউন-নমরুদ-হিটলারের মতো কর্তৃত্ববাদী ধ্বংসকারী সরকারগুলো যখন এসেছে তখন তারা চেষ্টা করেছে সারা জীবন তাদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে।

মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও দুই মহানগরের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও আমিনুল হকের যৌথ সঞ্চালনায় ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে গুম হওয়া পরিবারের পক্ষে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদির লুনা, চৌধুরী আলমের ছেলে আবু সাদাত শাওন চৌধুরী, সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি, পারভেজ হোসেনের মেয়ে হৃদি, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের মেয়ে রাইসা প্রমুখ তাদের কষ্টের কথা বলেন। ইফতারে আরও অংশ নেন মোহাম্মদ শাহজাহান, জয়নাল আবেদীন, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত