মেরিনার্সের জয়ে হকির শিরোপা উন্মুক্ত

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪১ এএম

চলতি মৌসুমে তিনবারের দেখায় তিনবারই মেরিনার ইয়ংসের কাছে হারের স্বাদ পেতে হলো আবাহনীকে। গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকির সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় রবিবার আকাশি-হলুদরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কাছে হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। তাতে লিগের শিরোপা লড়াইটা হয়েছে আরও উন্মুক্ত। আবাহনীর হারে বাড়তি সুবিধা মিলছে চিরশত্রু মোহামেডানের। ৩২ পয়েন্ট নিয়ে সাদা-কালোরা এখন পয়েন্ট টেবিলে রাজত্ব করছে। মেরিনার্স, আবাহনী ও রবিবার আরেক ম্যাচে অ্যাজাক্সকে হারানো ঊষার সংগ্রহ সমান ২৮।

ক্লাব কাপ হকির ফাইনালের পর লিগের দুই মোকাবিলায় আবাহনীকে হারের হতাশায় ডুবিয়েছে মেরিনার্স। যা হজম করা ভীষণ কঠিন আবাহনীর খেলোয়াড়, কোচ-কর্তাদের জন্য। সবচেয়ে বড় বাজেটের দল গড়েও বারবার পিছিয়ে পড়ায় খেলোয়াড়রা হতাশ আর কর্তারা ফুঁসছেন ক্ষোভে। দলটির ভারতীয় কোচ একতরফা দায় দিচ্ছেন স্থানীয় খেলোয়াড়দের ওপর। তার দাবি, ভালো খেলোয়াড়রা যদি মাঠে পারফরম্যান্সই করতে না পারে, তবে সেই ভালোর কোনো গুরুত্ব নেই। আর আবাহনীর কর্তাদের রোষ ভারতীয় ভিনদেশিদের ওপর। কারি কারি টাকা দিয়ে যাদের আনা হয়েছে, তারা কেউই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছে না। তাই তো মেরিনার্সের কাছে এক মৌসুমে তিনবার হারের লজ্জা পেতে হয়। আর দলের খেলোয়াড়রা এমন পারফরম্যান্সের সঠিক কারণই খুঁজে পাচ্ছেন না।

লিগের দুই ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পর আবাহনী উড়িয়ে এনেছিল ভারতীয় কোচ সিদ্ধার্থ পান্ডেকে। তার অধীনেও ভালোই চলছিল। তারা টানা আট ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের রাজ করছিল। এরপরই মেরিনার্সের কাছে হারে হয় ছন্দপতন। প্রথমপর্বের শেষ ম্যাচে তারা ১-১ ড্র করে বসে মোহামেডানের সঙ্গে। তাতে তাদের টপকে শীর্ষে চলে যায় মোহামেডান। আবাহনী সুপার লিগের শুরুতে পুলিশকে হারিয়ে ভালোভাবেই রেসে ছিল। তবে মোহামেডান টানা দুই জয়ে নিজেদের পয়েন্ট ৩২-এ নিয়ে যায়। রবিবার আবাহনীর সুযোগ ছিল মোহামেডানের সঙ্গে ব্যবধানটা এক পয়েন্টে নামিয়ে আনার। তবে তার জন্য মেরিনার্সকে হারাতে যে পারফরম্যান্সটা প্রয়োজন তা তারা দেখাতে পারেনি। বিশেষ করে পেনাল্টি কর্নারের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। দলটির মূল পিসি স্পেশালিস্ট আশরাফুলের সময় একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। দলের কোচ সিদ্ধার্থ পা-ে তাতে ভীষণ হতাশ, ‘আশরাফুল আমাদের মূল পিসি টেকার। অথচ সে একেবারেই ফর্মের বাইরে আছে। তাছাড়া ডিফেন্ডিংও আমরা ভালো করতে পারছি না। দলের বিদেশিরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও শুটিং সার্কেলের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। এভাবে খেললে লড়াইয়ে টিকে থাকা কঠিন।’

আবাহনীর হকি কর্তা জাকি আহমেদ রিপন অন্যরকম কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন। ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে বলেন, ‘আমাদের ক্লাবে পেমেন্ট নিয়ে কখনোই কোনো অভিযোগ থাকে না। অথচ দল যেভাবে গোলগুলো হজম করছে, তা দেখে মনে হয়েছে তারা ইচ্ছে করেই গোল খেতে চেয়েছে। আমরা যতই ভালো দল গড়ি না কেন, দল যদি পারফর্ম না করে, ইচ্ছে করে গোল হজম করে, কিছুই হবে না। মেরিনার্সের কাছে মৌসুমে তিনবার হারা ভীষণ লজ্জার।

রবিবার দেড়টায় শুরু হওয়া ম্যাচে দুদলই খেলেছে সেয়ানে সেয়ানে। তবে প্রথম কোয়ার্টারে কেউই গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। মেরিনার্স দুটি পিসির সুযোগ হাতছাড়া করে। ১২ মিনিটে তাদের একটা ফিল্ড গোলের প্রচেষ্টা ফিরে আসে পোস্টে লেগে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে অবশ্য ঠিকই জ্বলে উঠে গোল আদায় করে নেয় মেরিনার্স। ২০ মিনিটে পিসি থেকে গোল করেন ফর্মে থাকা সোহানুর রহমান সবুজ। এ নিয়ে লিগে ৩১ গোল করলেন এই পিসি স্পেশালিস্ট। ২৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেরিনার্স। এবার পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আবাহনী কিপার বিপ্লব কুজুরকে সহজেই পরাস্ত করেন অধিনায়ক ফজলে হোসেন রাব্বি।

তৃতীয় কোয়ার্টারে অবশ্য বিতর্কিত এক গোলে ব্যবধান কমিয়েছিল আবাহনী। পিসি থেকে ভারতীয় শিশে গাওয়াদের প্রচেষ্টা জালে জড়ানোর আগে মেরিনার্সের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করেছিল। মেরিনার্স রিভিউ নিয়েছিল। ভিডিওতে পায়ের লাগার বিষয়টি স্পষ্ট দেখা গেলেও শ্রীলঙ্কান ভিডিও আম্পায়ার সেটাকে গোলের রায় দেন। এ নিয়ে প্রায় আট মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। পরে শুরু হলেও ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি আবাহনী। এমনকি শেষ তিন মিনিট তারা গোলকিপার ছাড়া মরিয়া হয়ে গোলের চেষ্টা করেছে। তবে ফিনিশারদের দুর্বলতায় গোলটা অধরাই থাকে। তাতে লিগ শিরোপার পথে বেশ খানিকটা পিছিয়ে যেতে হয় আবাহনীকে।

মেরিনার্স ১৪ এপ্রিল সুপার লিগের তৃতীয় ম্যাচটি খেলবে শীর্ষে থাকা মোহামেডানের সঙ্গে। সেই ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে লিগের অনেক হিসাব। দিনের অপর ম্যাচে অ্যাজাক্সকে ২-১ গোলে হারিয়ে রেসে টিকে রয়েছে ঊষা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত