‘হাথুরু বড় কোচ, আমিও সম্মানিত’

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪২ এএম

বাংলাদেশ দলের পরিচালক হিসেবে লম্বা সময় জাতীয় দলে ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। হয়ে উঠেছিলেন টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে একাদশ নির্বাচন এবং ম্যাচে বিভিন্ন পরিকল্পনাও দিতেন তিনি।

কিন্তু ২০২৩ বিশ্বকাপে সুজনকে একরকম দলের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকতে হয়। টিম ডিরেক্টর হিসেবে দলের সঙ্গে গেলেও তার কোনো পরামর্শই নেওয়া হতো না। হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেই ম্যাচ পরিকল্পনায় সুজনকে পাত্তা দিতেন না বলে গুঞ্জন ছিল। সুজন নিজেও বিশ্বকাপ চলাকালে এ ব্যাপারে আক্ষেপ করেছিলেন, নিজের কাজটা করতে পারছেন না বলে।

ওই সময় হাথুরুসিংহকে নিয়ে কিছু না বললেও এবার আর চুপ থাকতে পারলেন না। বিশ্বকাপে নিজের মন মতো কাজ না করতে পারার ক্ষোভ উগরে দিলেন একেবারে। জানালেন আর কখনো জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতে চান না।

রবিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সুজন বলেন, ‘আমি মনে হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের আর সমাধান না। বাংলাদেশের আরও বড় সমাধান আছে। আমার আর বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোনো দায়িত্বে আগ্রহও নেই। গত বিশ্বকাপে আমি যা করেছি, আমি মনে করি ওটা আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সঙ্গে যায় না আসলে। হয়তো বা আমি অত বড় কোচ না, অত কিছু জানিও না ক্রিকেট নিয়ে। তারপরও আমার সম্মান আছে, গত বিশ্বকাপে আমি সেই সম্মানটা পাইনি। আমি আর এই কাজ করতেও চাই না।’

বোর্ড পরিচালক সুজন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডের প্রধান কোচ। বিপিএলে তাকে একেক সময় একেক দলের দায়িত্বে দেখা যায়। এছাড়া রাজশাহীতে বাংলা ট্র্যাক একাডেমির দায়িত্বেও আছেন তিনি। জাতীয় দলের বাইরে এখন ওই দায়িত্বগুলোই পালন করতে চান বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। ‘আমি নিজের জীবন নিয়ে থাকতে চাই। আমি আবাহনী, বিপিএলে, রাজশাহীতে ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে কাজ করি। আমি এগুলো নিয়ে খুব খুশি আছি। দেশের ক্রিকেটের কোনো উন্নতিতে যদি কাজ করতে হয় তবে অবশ্যই করব। কিন্তু জাতীয় দলের অ্যাসাইনমেন্টগুলো হয়তো আমার জন্য না, আমি যেটা বললাম আমি হয়তো ওটা ডিজার্ভ করি না।’

বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন যদি অনুরোধও করেন তবুও জাতীয় দলের সঙ্গে আর কাজ করবেন না তিনি। বরং তার আশা বিসিবি সভাপতি এমন অনুরোধ তাকে আর করবেন না, ‘পাপন ভাই আমার অধিনায়ক, উনি আমাকে যখন বলেন যে ফাইন লেগে ফিল্ডিং করতে আমি করব। কিন্তু আমি মনে করি উনি আর আমাকে বলবেন না ফাইন লেগে ফিল্ডিং করতে। আমি মনে করি আমি কোনো সমাধান না এখন আর। এত বড় বড় কোচরা আসছে যারা উচ্চ বেতনের, তাদের মধ্যে আমার না যাওয়াটাই ভালো। আমি এখন আর ২৮-২৯ বছরের বালক না, আমার সম্মানটা এখন আমাকে রাখতে হবে। পাপন ভাইকে আগের মতোই সম্মান করি। কিন্তু আমি অনুরোধ করি পাপন ভাইকে যেন উনি আমাকে আর এ বিষয়ে কোনো কাজ করতে না বলেন।’

বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাকে রাখা হয়নি। সুজনের ক্ষোভ মূলত তা নিয়ে। বারবার তা মনে করিয়ে দেন তিনি, ‘অপমান কথাটা বলব না, আমি তো ক্রিকেট পছন্দ করি। একটা জয়গায় যখন কাজ করেছি, সেই জায়গাটা যখন না পাই কাজ করতে, এতগুলো ট্যুর করার পর আমার কাজটা পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে আমাকে ওই দায়িত্বে রাখার কোনো মানে হয় না আসলে। আমি সেই কাজ না করতে পারি তাহলে কেন করব, আমি তো ট্যুর করতে যাই না বাংলাদেশ দলের সঙ্গে। আমি বিদেশ অনেক ঘুরেছি, বিদেশ ঘোরার কোনো ইচ্ছাই নেই আমার। কাজেই আমি মনি করি আমি এর বাইরে। হাথুরুসিংহে বিশ্বের সেরা কোচ হতে পারে সেটা আমার কাছে কোনো মূল্য রাখে না। আমার বাংলাদেশে অনেক সম্মান আছে, ক্রিকেটাররা আমাকে অনেক সম্মান করে, আমি সেই সম্মানের জায়গাটা হারাতে চাই না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত