পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। বাস টার্মিনালে গতকাল রবিবার থেকে চাপ বাড়ছে যাত্রীদের। তবে ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস স্টেশনগুলোতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালে আগের থেকে ব্যস্ততা বাড়তে শুরু হয়েছে। গাবতলী বাস টার্মিনালে কিছুটা ভিড় থাকলেও সায়েদাবাদ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীর ভিড় বেড়েছে। এর প্রভাবে সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী পার হতে দীর্ঘ যানজটে পড়তে দেখা যায় যাত্রীদের। অন্যদিকে চাপ বাড়ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, এবার ঈদযাত্রায় শুধু ঢাকা ছাড়ছে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ। আর এসব যাত্রীকে ৯৮৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে।
গতকাল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা এলাকায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে। তবে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই পদ্মা সেতু দিয়ে স্বস্তিতে পারাপার হচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা। তবে সকালে মৃদু বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল আরোহীরা বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।
টোল কালেক্টর জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এই ৪ ঘণ্টায় সহস্রাধিক মোটরসাইকেল ঢাকা থেকে পদ্মা সেতুতে প্রবেশ করেছে। তবে ১০টার পর থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে মোটরসাইকেলের সংখ্যা কমে গেছে। আমরা একটি মোটরসাইকেলে দুজনের অধিক এবং হেলমেট ছাড়া প্রবেশ করতে দিই না।
এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষ বাড়ি ফিরছেন। ওই মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো ধীরগতি বা যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে লঞ্চে যাত্রীর চাপ থাকলেও ফেরিঘাট ছিল ফাঁকা। ঈদের ছুটিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ঘরমুখো মানুষের চাপ লক্ষ করা গেছে, তবে ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ এখনো লক্ষ করা যায়নি। ভোগান্তি না থাকায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তিভাব লক্ষ করা গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকার নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি আমাদের সেবার মান উন্নয়ন করে, আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এজন্য এবারও আমরা বডিওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করব। বিশেষ করে যেখানে যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে আমাদের ড্রোন থাকবে। ড্রোনের মাধ্যমে আমরা ট্রাফিক নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করব।
আইজিপি বলেন, মহাসড়কে নসিমন, করিমনসহ ভটভটি জাতীয় বাহনের চলাচল বন্ধ থাকবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। রাস্তায় আমাদের মোবাইল কোর্ট থাকবে। বেপরোয়া গতিতে যেন গাড়ি চালানো না হয় সেজন্য আমরা সব চালককে অনুরোধ জানাব।
হাইওয়ে পুলিশপ্রধান শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, গতবারের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা হবে আরও নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়। এজন্য ঈদের দিন পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করে যাবে।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঈদযাত্রা না করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, আপনারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো বাহনের যাত্রী হবেন না। আমরা কেউ দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে যেতে চাই না।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমরা লক্ষ করেছি ইতিমধ্যে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামীকাল থেকে যাত্রীদের বড় চাপ শুরু হবে। জনগণের ঈদযাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক হয় সেজন্য পুলিশের সব ইউনিট একযোগে কাজ করছে।
রিপোর্টটি করতে সহযোগিতা করেছেন গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি।
