শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শত বাধা ঠেলে ঈদ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ এএম

আজ চাঁদ উঠলে আগামীকাল ঈদুল ফিতর। ঈদ আমাদের জীবনে অন্যতম বড় উৎসব। আর সে কারণে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নামে বাড়ি ফেরার ঢল। রোজগারের জন্য শহরে থাকতে বাধ্য হলেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষের নাড়ির টান এখনো গ্রামের বাড়িতে আর তাই সেখানে তারা ছুটে যেতে চান ঈদের সময়। এই বছর ঈদের ছুটির সঙ্গে সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। ঈদের আমেজের পরপরই বাঙালি বরণ করে নেবে নতুন বছরকে।

এ রকম সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় যানবাহনের ওপর অনেকগুণ চাপ পড়ে। এই পরিস্থিতিতে যানবাহন ব্যবসায়ীরা সাধারণ যাত্রীদের থেকে বেশি ভাড়া আদায় করেন। রেলের মতো সরকারি বাহনে প্রতি বছর চলে টিকিট সংকট। এগুলো জানা থাকা সত্ত্বেও এবারও যথারীতি এসব অরাজকতা চলছেই। যানবাহনের বাড়তি ভাড়া, রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার ভোগান্তি পোহাচ্ছেন জনগণ। অথচ, সারা বছর কর্মক্লান্ত মানুষের জন্য এই সময়টার কথা মাথায় রেখে আরও আগে থেকে পরিকল্পনা করা যেত। মহাসড়কের স্থবিরতা দূর করতে দরকার ছিল সমন্বিত উদ্যোগ। যাত্রীদের অবস্থার সুযোগ নিয়ে বেআইনি মুনাফাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু, পরিবহন তো বটেই পবিত্র রমজান মাসেও অতিরিক্ত দ্রব্যমূল্যর চাপে পিষ্ট হয়েছে জনগণ। পশ্চিমে ক্রিসমাসের মতো উৎসবে বা পৃথিবীর বহু মুসলিম দেশে রোজা ও ঈদ উপলক্ষে মূল্যছাড় দিয়ে উৎসবের আমেজ আনা হলেও আমাদের এখানে ঘটে তার বিপরীতটাই। বিপুল জনগোষ্ঠীর এই দেশে ব্যবসায়ীরা যেন ভোক্তার অধিকারকে থোড়াই কেয়ার করেন। যাদের এসব নিয়ন্ত্রণের কথা তারাও নির্বিকার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে উদ্ভট সিদ্ধান্ত নিতেও দেখা যায়। যেমন, এইবার রেলের টিকিটের বেলায় দেখা গেল এর শতভাগ বিক্রিই অনলাইনে। বাংলাদেশের মতো দেশে এই ব্যাপারটা চরম বৈষম্যের। দরিদ্র এবং অল্পশিক্ষিত মানুষকে বাধ্য হয়ে আরও বেশি দামে মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকে টিকিট কিনতে হচ্ছে, যদিও তা পাওয়ারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ঈদ আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ ঈদের বোনাস। এই বোনাস যে কেবল সারা বছর কাজ করা কর্মীদের অধিকার তাই নয়, এর ফলে দেশের অর্থনীতি বিপুলভাবে গতিশীল হয়। কিন্তু, সংবাদমাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে আমাদের অর্থনীতির অন্যতম খাত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে একটা বড় অংশের কর্মীদের এখনো বেতন-বোনাস হয়নি। বোনাস না পেলে এসব মানুষের ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে যাবে। মালিকপক্ষ বলছেন বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বিধায় বেতন-বোনাস দিতে সমস্যা হচ্ছে। সব মিলে আগের চেয়ে কারখানার উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমেছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর এক নেতা।  বিদ্যুতের কারণে গার্মেন্টস ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিকরা যথাসময়ে বেতন পাচ্ছেন না। গ্রামের দিকে লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কৃষকের সেচ দিতে সমস্যা হচ্ছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের জীবিকা হুমকির মুখে। গ্রামীণ অর্থনীতি মারাত্মক চাপে। সারা মাসের দ্রব্যমূল্যের চাপ, যাত্রাপথের নানা রকম ভোগান্তি পেরিয়ে যখন মানুষ গ্রামের বাড়িতে হাজির হন তখন মুখোমুখি হন যন্ত্রণাদায়ক লোডশেডিংয়ের। ফলত, ছুটির কয়টা দিন আরামে কাটানোর চিন্তাও ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

অন্যদিকে চিন্তা থাকে, শহরে ফেরার পর বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে। প্রতি বছরের মতো এই বছরেও ঈদের আগ দিয়ে শহরে নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে গেছে। বিপুল লোকজনের বাড়ি যাওয়ার সুযোগে বাসাবাড়িতে চুরি বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। যারা শহরে থাকছেন তাদেরও স্বস্তি নেই। তাদের ঘিরে থাকবে ডেঙ্গুর আশঙ্কা। তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টি এলে ডেঙ্গুর ভয়ে তাকেও স্বাগত জানাতে পারবেন না নগরবাসী। এত কিছুর পরেও দেশের মানুষ ঈদের দিন হাসিমুখে কাটাতে চেষ্টা করবে। সবকিছু ভুলে উদযাপন করবে উৎসবের। এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হোক, ঈদ হোক আনন্দে ভরপুর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত