ঈদযাত্রার প্রথমদিকে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করা গেলেও শেষ দিন বুধবার সড়কে গাড়ির চাপ বাড়ে। এতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষ। মহাসড়কে ছিল দীর্ঘ জট, সেই সঙ্গে যাত্রীদের গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া।
জানা যায়, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি গিয়েছিল। যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নিরাপদ, নির্বিঘœ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নানামুখী তৎপরতার মধ্যেও এবার ঈদযাত্রায় শুধু ঢাকা ছাড়তে ৯৮৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে এই যাত্রীদের। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অন্যান্য বছর ২৯ রোজায় ঈদের ছুটি শুরু হলেও এবার ২৯ রোজায় অফিস-আদালত ও গার্মেন্টস খোলা থাকে। এ কারণে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন। টানা পাঁচ দিনের ছুটি এবং ঈদের পর পহেলা বৈশাখের উৎসব থাকায় এবার ঘরমুখোদের বাড়ি ফেরার উৎসাহ ছিল বেশি। এ সুযোগে লোকাল গাড়িগুলো বেশি ভাড়া আদায় করেছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালে শিহাব নামে এক যাত্রী সিলেটে যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই অগ্রিম টিকিট কিনেছেন। এর জন্য এখন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। তবে লোকাল বাসগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগেই পায়ে-পায়ে মানুষের স্রোত টার্মিনালের দিকে। ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নামে সবখানেই। নৌ-সড়ক-রেলপথ কোথাও ঠাঁই নেই। সবখানে ভিড়। মানুষ আর মানুষ। পথে পথে যানবাহনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে বিকেল থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়ে। সন্ধ্যার আগেই ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, সাভার, ঢাকা-সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে নানা ভোগান্তি, ঝক্কিঝামেলা মাথায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত আনন্দ নিয়ে, হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন নগরবাসী।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদযাত্রায় এবার অনেকটাই ভোগান্তি কমেছে। তবে শেষের দিন বেশ কিছু জায়গায় বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ আছে। সেগুলোও যদি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হতো, তাহলে এ সমস্যাগুলোরও সমাধান হয়ে যেত।
এ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘কেউ যেন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া না নেয় সে বিষয়ে সমিতি থেকে নির্দেশনা দেওয়া ছিল। সার্বিক বিষয় তদারকি করতে সমিতির পক্ষ থেকে সব টার্মিনালে বিশেষ টিম পাঠানো ছিল। তাই এবার সেভাবে ভোগান্তি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
এদিকে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত একদিনে ৪৭ হাজার ৭৫৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা। অন্যদিকে এ সময় পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা। সেতু পারি দিয়েছে ৪৫ হাজার গাড়ি।
