বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লম্বা ছুটি বাড়াল ঈদ আনন্দ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৫ এএম

ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। টানা ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গত বৃহস্পতিবার আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অন্যতম এ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। ঈদ ঘিরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। এদিন সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শিশুরা নতুন পাঞ্জাবি ও টুপি পরে ঈদগা ময়দানে উপস্থিত হন। ঈদের নামাজ শেষে হাসিমুখে কোলাকুলি ও করমর্দনের পর একে অন্যকে বাড়িতে টেনে নেন। সাধ্যানুযায়ী ঘরে ঘরে রান্না হয় সুজি, সেমাই, পোলাও, কোরমা, পায়েস, পিঠা-পুলিসহ নানা সুস্বাদু খাবার।

রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শুরু হয় জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায়। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ জামাত। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি রুহুল আমীন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ সাধারণ মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে ইমাম বিশেষ খুতবা পাঠ করেন। এরপর সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া এবং মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষভাবে আল্লাহর সাহায্য কামনা করা হয়। নামাজ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

জানা গেছে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমে শুরু হয় ঈদের প্রথম জামাত। নামাজ শেষে ৭টা ২২ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া ১২ মিনিটব্যাপী চলা মোনাজাতে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া করেন ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ। এ মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররমের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। নামাজ শেষে মানুষের কল্যাণ ও দেশের সমৃদ্ধ কামনা করে দোয়া করা হয়। মোনাজাতে দেশবাসীর কল্যাণ ও সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া কামনা করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং মৃতের ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় আরও চারটি ঈদ জামাত হয়।

এবারও প্রতি বছরের মতো কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টায়। আর এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়। এতে কয়েক লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক এ জামাতে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের কয়েকটি জেলার মুসল্লিরা আসেন।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, শারীরিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। ঈদ উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো বিনোদনমূলক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে।

এ ছাড়া সকাল থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, চন্দ্রিমা উদ্যান, লালবাগের কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, হাতিরঝিল এবং শিশু পার্কসহ সব বিনোদনকেন্দ্র আবালবৃদ্ধবনিতার পদচারণায় মুখরিত ছিল।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত