প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিমানের প্রতিবেদকের ব্যাখ্যা

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৯ এএম

দেশ রূপান্তরে গত ৮ এপ্রিল ‘লোকসানি সংস্থায় লাভের ভাগ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার স্বাক্ষরিত প্রতিবাদপত্রে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরা হলো। পাশাপাশি দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিবেদকের বক্তব্যও রয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত দেনার পরিমাণের চেয়ে বিমানের প্রতিবাদপত্রে উল্লিখিত বকেয়া দেনার পরিমাণ বেশি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। আর বিমানের প্রতিবাদপত্রে বকেয়া দেনার পরিমাণ ৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে বিমান বলেছে, বেবিচকের কাছে তাদের মূল দেনা ৮৩৮ কোটি টাকা (ল্যান্ডিং পার্কিং ৫৭৩ কোটি এবং জমির ভাড়া ও ইউটিলিটি বাবদ ২৬৫ কোটি টাকা), যা পুঞ্জীভূত দেনা। বেবিচকের কাছে বিমানের বকেয়া দেনার অধিকাংশই সারচার্জ, যার পরিমাণ ৪ হাজার ৬৯০ কোটি এবং ভ্যাট, ট্যাক্স বাবদ ৪৮৬ কোটি টাকা। বেবিচক প্রতি বছর ৭২% হারে বিমানের মূল দেনার ওপর সারচার্জ ধার্য করে থাকে। আর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের মূল বকেয়া ৯৫৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

বিমানের প্রতিবাদপত্রেই বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে বেবিচক আরোপিত সারচার্জ ১ হাজার ২১৬ কোটি টাকা মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক মওকুফ করা হয়েছে।

অর্থাৎ বিভিন্ন চার্জ বাবদ বেবিচক যেসব ফি ধার্য করে এবং এসব ফি বকেয়া পড়ার কারণে যে সারচার্জ আরোপ হয়, তা একসময় মন্ত্রণালয় মওকুফ করে দেয়। বেবিচক বিধিবদ্ধ সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ধার্য করা চার্জ বাণিজ্যিক সংস্থা পরিশোধ করে না। একসময় বাণিজ্যিক সংস্থার বকেয়া মওকুফ করা হয়। আর একটা সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, কোনো চার্জ যদি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না হয় তাহলে ৭২% জরিমানা দিতে হয় এবং প্রায় সর্বক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য।

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে বেবিচকের চলতি বিলসমূহ নিয়মিতভাবে পরিশোধ করে যাচ্ছে এবং চলতি বকেয়া নেই। গত জানুয়ারি ’২৩ থেকে মার্চ ’২৪ পর্যন্ত বিমান বিল বাবদ প্রায় ৫৯৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। যার মধ্যে ২০১৬ সালের আগের পুঞ্জীভূত বকেয়া বিল ছিল প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।

প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পুঞ্জীভূত বকেয়া পরিশোধের জন্য একটি পেমেন্ট প্ল্যান বেবিচককে দেওয়া হয়েছে। পুঞ্জীভূত দেনার মধ্যে ২০০৭ থেকে ২০১৫ সালের বিল রয়েছে, যা ইক্যুইটিতে স্থানান্তর করার জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। জমির পরিমাণ সম্পূর্ণরূপে নির্ধারণ না হওয়ায় জমির ভাড়া বিমান পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে এ খাতে ২৬৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

বিমানের হিসাব অনুযায়ী, পদ্মা ওয়েল কোম্পানির কাছে জেট ফুয়েল বাবদ দেনার পরিমাণ ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকা আর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জেট ফুয়েল বাবদ দেনা ২ হাজার ১০৮ কোটি টাকা।

বিপিসির পাওনা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে দুই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থায়। স্বাভাবিক নিয়মেই দুই সংস্থার হিসেবে হেরফের থাকে। পরে দুই সংস্থার সভায় তা সমন্বয় করা হয়।

বোনাসের বিষয়ে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় ও নিয়মে বিমানকর্মীরা ঈদ ও বৈশাখী বোনাস পেয়েছেন। প্রফিট বোনাসের বিষয়ে বিমান বলেছে, শ্রম আইন অনুযায়ী কোম্পানি আইনের অধীন সব প্রতিষ্ঠানকে লাভের ৫% কর্মীদের মধ্যে প্রদান করতে হয়। বিমান শ্রম আইনের সব নিয়ম অনুসরণ করেই স্থায়ী কর্মীদের প্রফিট বোনাস দিয়েছে। এখানে আইন বা নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনেও শ্রম আইনের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিমান যে বক্তব্য দিয়েছে তা প্রতিবেদনেই উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন খ্যাতনামা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে হিসাব নিরীক্ষা করার কথা উল্লেখ করে বিমান বলেছে, আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দায়-দেনার মিলকরণ হিসাববিজ্ঞান নীতিমালা সম্পর্কে অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। প্রতিবাদপত্রে বিমানের মুনাফা কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিমান প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেওয়া বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, সরকার বিমানকে কোনো প্রকার ভর্তুকি দেয় না। বিমান তার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যবসা পরিচালনা করে।

বিমান প্রয়াত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যের একটি অংশেরই ব্যাখ্যা দিয়েছে। অথচ এর বাইরেও তিনি বিমানের জনবল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জনবল কমানোর শর্তে বিমানকে করপোরেশন থেকে কোম্পানি করা হয়েছে। কিন্তু বিমান জনবল তো কমায়ইনি বরং বাড়িয়েছে। এ জনবল নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৭ সালে করপোরেশন থেকে কোম্পানি করার সময় বিমানের প্রায় সব দায় সরকারের কাঁধে নেওয়া হয়। প্রতিবাদপত্রেই বলা হয়েছে, সেই সময় বেবিচক আরোপিত সারচার্জ ১ হাজার ২১৬ কোটি টাকা মন্ত্রণালয় মওকুফ করে। এ ছাড়া ভিআরএসের মাধ্যমে যে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক স্কিম নেওয়া হয় তাও শেষ পর্যন্ত সরকারের কাঁধেই চাপানো হয়। দিন শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারকেই দায় পরিশোধ করতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত