হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলায় চলছে ধান কাটার ধুম। বৈশাখের শুরুতে যে জমিগুলোতে ধান পেকেছে সেগুলো কাটার ধুম পড়েছে। বর্তমানে দম ফেলার ফুরসত নেই কৃষক পরিবারগুলোর।
হাতে ধান কাটার পাশাপাশি দ্রুত ধান কাটতে ব্যবহার করা হচ্ছে ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র কম্ভাইন্ড হারভেস্টার। সূর্য ওঠার সাথে সাথে কৃষকরা পরিবার-পরিজন ও দিনমজুর নিয়ে সোনালি ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ১২টি উপজেলায় চলছে একযোগে ধান কাটা। কৃষি বিভাগ আশা করছে- আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জেলার সকল হাওরের জমির ধান কেটে গোলায় তুলতে পারবে কৃষক।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তার মধ্যে বৈশাখের প্রথম দিনে এই অঞ্চলের ৩০টি হাওরে লক্ষাধিক কৃষক সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধান কাটতে মাঠে নামেন। একদিকে কৃষকরা ধান কাটছেন অন্যদিকে কৃষাণীরা সেই ধান রোদে শুকাচ্ছেন কেউ-বা আবার সেই ধান বস্তা ভরে সংরক্ষণ করছেন।
কৃষকরা জানান, বৈশাখের প্রথম দিনে কষ্টের ফলানো সোনালি ধান ঘরে তুলতে পেরে সত্যি খুব আনন্দ লাগছে। এই হাওরকেই ঘিরেই আমাদের বৈশাখ।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে দুই লাখ ২৩ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। যেখান থেকে এই বছর ১৩ লাখ ৭০ হাজার ২০২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে। টাকার অংকে যার বাজারমূল্য প্রায় চার হাজার একশ দশ কোটি টাকা।
তবে সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের সহযোগিতা ও দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
