নতুন পরাশক্তির তালিকায় নাম লেখাতে যাওয়া দেশ ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের তকমা কুড়িয়েছে। আগামী শুক্রবার দেশটিতে শুরু হচ্ছে ১৮তম লোকসভা নির্বাচন, যা চলবে ১ জুন পর্যন্ত। সাত দফার এই দীর্ঘ নির্বাচনযজ্ঞের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এবার ভারতের দ্বিকক্ষের আইনসভার নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ আসনের আইনপ্রণেতাদের নির্বাচিত করবে প্রায় ১০০ কোটি ভোটার।
ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিশ্বের বৃহত্তম এই জাতীয় নির্বাচনে আরও এক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার জন্য জনসমর্থন খুঁজছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যিনি ২০১৪ সালে
প্রথমবার দলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন। তার শাসনামলে ভারত আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরাশক্তি হিসেবে নিজের শক্তিবৃদ্ধি করতে মরিয়া হয়ে ছুটছে। ১৪০ কোটি জনসংখ্যার পরমাণু শক্তিধর দেশটি ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে অন্যতম বড় এক খেলোয়াড়। তবে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মোদির হাত ধরে প্রসারিত ধর্মীয় মেরূকরণের হাওয়ার কারণে দেশটি এক দশক ধরে আলোচনায়। এবার নির্বাচনেও হিন্দুত্ববাদী প্রচারের হাওয়া প্রবল।
ভারতের এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন প্রায় ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ভোটার। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৬৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোট দিয়েছিলেন, যা ছিল ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসের সর্বোচ্চ। দেশের ২৮টি রাজ্য আর ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলবে এবারের ভোটাভুটি। নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৪ জুন। এবারও বিজেপির সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ৭৭ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দল জাতীয় কংগ্রেস। নরেন্দ্র মোদির বিপরীতে কংগ্রেসের প্রচারকৌশলের প্রধান মুখ গান্ধী পরিবারের সন্তান রাহুল গান্ধী। এবার নির্বাচনে তার ওপর নজর থাকবে একই রকম, যেমনটি আগে ছিল। ভারতের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে দুই দফায় পদযাত্রা করে তিনি গত বছর থেকে আলোচনা তৈরি করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা এবারও বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের আভাস দিয়ে রেখেছেন।
৮২ দিনের নির্বাচনী আয়োজনটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম। এতে ৫৫ লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) থাকবে ১০ লক্ষাধিক ভোটকেন্দ্রে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন ১ কোটি ৫০ লাখ কর্মী। নির্বাচনী ব্যয়ের দিক থেকেও এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল। রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে প্রার্থীদের ব্যয় হিসাব করলে এই নির্বাচনে ব্যয় হবে ১৪ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ। ২০১৯ সালের তুলনায় এই ব্যয় দ্বিগুণ।
