উৎপাদনে ফেরার ১৭ দিন পর আবারো বন্ধ চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩২ পিএম

দীর্ঘ ১৪ মাস বন্ধ থেকে উৎপাদনে যাওয়ার মাত্র ১৭ দিন পর আবারো বন্ধ হয়ে গেছে চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে গত ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। পরবর্তীতে গ্যাস টারবাইনে ত্রুটি ধরা পড়লে দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটি।

এদিকে তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনসাধারণের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যা সমাধান করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই উৎপাদনে যাবে কেন্দ্রটি।

চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুরি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১৮ মার্চ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস টারবাইন ইউনিট চালু করা হয়। মাত্র ১৭ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন শেষে ৪ এপ্রিল এই ইউনিটের একটি জেনারেটরের বেয়ারিংয়ে ওয়েল লিকেজ থেকে ছোট আকারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ সময় কর্তব্যরত ইঞ্জিনিয়াররা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ইউনিটটি শাটডাউন করে দেয়। এর পর থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। তবে কি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা রিপেয়ারিং কাজ শুরু হলে জানা যাবে।

অভিজিৎ কুরি বলেন, এর আগে নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। সকল কাজ শেষ করে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস টারবাইন ইউনিটটি চালু করতে গেলে ধরা পড়ে গ্যাস বুস্টার নামক যন্ত্র অকেজো। রিজার্ভে থাকা গ্যাস বুস্টার যন্ত্রটি আগে থেকে অকেজো থাকায় বন্ধ হয়ে যায় পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গ্যাস বুস্টার ক্রয়সহ আমেরিকা থেকে আনা হয় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। চীন, ইন্দোনেশিয়ান এক্সপার্ট টিম ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলীদের যৌথ চেষ্টায় সম্পন্ন করা হয় নতুন গ্যাস বুস্টার ইনস্টলেশনের কাজ।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন হয়ে পড়ছে অতিষ্ঠ। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। জেলায় দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দাহিদা থাকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট।

শহরের মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, এই তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যখন যখন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমত ঘুমানো যায় না। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়ও সমস্যা হচ্ছে। আমরা চাই চাঁদপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিপূর্ণভাবে চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। লোডশেডিং না থাকলে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারব।

প্রকৌশলী অভিজিৎ কুরি বলেন, জেনারেটরের ওয়েল লিকেজের কারণে ঘটা অগ্নিকাণ্ডে বিভিন্ন মেশিনারিজের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। তবে লিকেজ রিপেয়ার না করে নতুন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছি না। নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত সময়ে তদারকি শেষ করবে। আশাকরি ৩ মে’র মধ্যে গ্যাস টারবাইন ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফুয়েল খরচ হয় প্রায় ২.০৯ পয়সা এবং স্টিম টারবাইন চালু থাকলে খরচ কমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফুয়েল খরচ পড়ে প্রায় ১.৭৭ টাকা। গ্যাস টারবাইন ইউনিটটি রিপেয়ারিং কাজে খরচ হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস টারবাইন ইউনিট চালুর পাশাপাশি ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন স্টিম টারবাইন ইউনিটটিও সচল করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মালামাল পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীন থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজে যোগদান করবে। আগামী জুন মাসের মধ্যে এই ইউনিটটিও চালু করা সম্ভব হবে। এতে করে চাঁদপুর ও এর আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানান কেন্দ্রটির এই কর্মকর্তা।

২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২ সালের মার্চ মাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে কেন্দ্রটি। চীনা কোম্পানি চেংদা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত