আবারও ফিলিস্তিনিদের অধিকার কাড়ল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৮ এএম

জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদের জন্য ফিলিস্তিনের আবেদনে ‘ভেটো (আমি ইহা মানি না)’ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে আরও একবার ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের আকাক্সক্ষা ধাক্কা খেল। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ১৫ সদস্যের ১২টিই ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের পক্ষে ভোট দেয়। স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য এবং অস্থায়ী সদস্য সুইজারল্যান্ড ভোটদানে বিরত থাকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন পেলেও নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ভেটো প্রয়োগ করে গোটা বিষয়টি ভ-ুল করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি দেশকে ভোটদানে বিরত থাকার জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চালালেও তা কাজে আসেনি।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র তার এই অবস্থানকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থনের কোনো পরিবর্তন হিসেবে দেখে না। এ নিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রদূত রবার্ট উড বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি শক্ত সমর্থন জারি রাখবে। এই ভোট ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণার বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। বিষয়টি স্বীকার করতে হবে, ওই পদক্ষেপের পরিবর্তে পক্ষগুলোর আলোচনার মধ্য দিয়েই কেবল বিষয়টি এগিয়ে নিতে হবে।’

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আগ্রাসী মার্কিন ভেটো আমেরিকান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমেরিকান নীতিতে দুই রাষ্ট্র সমাধানের কথা বললেও বারবার তা লঙ্ঘিত হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদের ফিলিস্তিনের বৈধ অধিকারকে নস্যাৎ করার মাধ্যমে।’ জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থায়ী পর্যবেক্ষক রিয়াদ মনসুর বলেন, ‘আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অবিচ্ছেদ্য ব্যাপার। একে বিলম্বিত করা যাবে না, আটকে রাখাও যাবে না।’

নিয়ম অনুযায়ী, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কোনো দেশের সদস্যপদ অনুমোদন পেতে হলে আগে নিরাপত্তা পরিষদের সম্মতি পেতে হয়। ২০১১ সালে ফিলিস্তিন আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে। তখনো সদস্য হতে বাধা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ২০১২ সালে তারা ‘অসদস্য পর্যবেক্ষক’ রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত