আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেই গাজার রাফা এলাকায় হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গত শুক্রবার রাতভর সেখানে হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী। ওইদিন ২৪ ঘণ্টায় সব মিলিয়ে ইসরায়েলের হামলায় আরও ৩৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় নিহত বেড়ে ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, এই দফায় ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে প্রতি ১০ মিনিটে একটি ফিলিস্তিনি শিশু আহত কিংবা নিহত হচ্ছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। এতে ১ হাজার ১৯৩ জন নিহত হয়। আহত হয় ৮ হাজার ৭৩০ জন। হামাস ইসরায়েলের প্রায় আড়াইশ জনকে জিম্মি করে। ইসরায়েল পরে গাজায় হামলা শুরু করে।
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপরও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৪৬৮ জনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছে অন্তত ৪ হাজার ৮০০ জন।
জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা বলছে, যুদ্ধে নিহতদের এক তৃতীয়াংশই নারী। অন্তত ১০ হাজার নারী এ যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া গত ছয় মাস ধরে চলা ইসরায়েল-হামাসের এ যুদ্ধে অনেক শিশুও নিহত হয়েছে।
গাজার সর্বশেষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ইসরায়েলের হামলায় শিশুদের হতাহত হওয়ার এ মারাত্মক পরিসংখ্যান সামনে এনেছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)। গত ১ এপ্রিল থেকে গতকাল শুক্রবারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ওসিএইচএ আরও জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে উত্তর গাজা ও দক্ষিণ গাজার কিছু অংশে পরিচালিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম যে সমন্বয়ের দরকার ছিল, তা করেনি ইসরায়েল কিংবা ইসরায়েলি কর্র্তৃপক্ষ এতে বাধা দিয়েছে।
এদিকে আসন্ন স্থল অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরায়েল রাফায় হামলা জোরদার করেছে বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলের হামলার মুখে উত্তর ও মধ্যাঞ্চল থেকে পালিয়ে সেখানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটিতে স্থল অভিযান না চালাতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
এদিকে অবরুদ্ধ গাজার পাশাপাশি দখলকৃত পশ্চিম তীরেও অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের নুর শামস শরণার্থীশিবিরে অভিযান চালিয়ে ১০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে।
এ ছাড়া গতকাল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া। এ দুই নেতার বৈঠকের আগে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শোকরি।
