বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দাবদাহে ‘গরম’ এসির বাজার

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৬ পিএম

তীব্র তাপদাহে দেশজুড়ে মানুষের জনজীবনে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশব্যাপী তিন দিনের জন্য সতর্কতামূলক হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়াও তাপদাহ মাথায় রেখে দেশের সব স্কুল-কলেজ সাতদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। চলমান তাপদাহে রাজধানীর শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসির) শোরুমগুলোতে ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। এক সময়কার উচ্চবিত্তদের বিলাসিতা এসি এখন উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্তের প্রয়োজনীয়তায় রূপ নিয়েছে। রবিবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর কয়েকটি এসি শোরুম ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

শুধু রাজধানী নয় দেশের জেলা শহরগুলোতেও বেড়েছে এসি বিক্রি। স্বচ্ছলরা নগদ টাকায় আর নিম্নবৃত্তরা এ গরমে স্বস্তিতে থাকতে কিস্তিতে এসি কিনছেন। এসি উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এসি বিক্রি ১৫–২০ শতাংশ বেড়েছে। বাসাবাড়ির জন্যই বেশি এসি কিনছেন মানুষ। বাজারে দেড় টন ইনভার্টার এসির চাহিদা সবথেকে বেশি। 

রবিবার রাজধানীর বাংলামোটরে ওয়ালটন প্লাজায় এসি কিনতে আসেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুর রহিম। বাসায় ৫ বছরের সন্তানের কথা মাথায় রেখে তিনি  নন-ইনভার্টার একটনের একটি এসি কিনতে আসেন। কিন্তু ওয়ালটনের এই শোরুমে নন-ইনভার্টার এসিগুলো আগেই বিক্রি হয়েছে। তাই ওয়ালটনের অন্য শোরুম থেকে এসি কেনার পরামর্শ দেন ব্রাঞ্চ ইনচার্য।

এ সময় আব্দুর রহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রচন্ড গরম আমরা সহ্য করলেও বাচ্চাটি সহ্য করতে পারেনা। এজন্য এসি কিনতে এসেছি। সাধ্যের মধ্যে এসি কেনার চেষ্টা করবো।’

গরমে এসি কেনাবেচা সম্পর্কে বাংলামোটরে ওয়ালটন প্লাজার ব্রাঞ্চ ইনচার্য মো. হান্নান পারভেজের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের পর থেকে প্রতিদিন এই ব্রাঞ্চে গড়ে ১০ থেকে ১২টি এসি বিক্রি হচ্ছে। অন্য সময় যেখানে মাসেই বিক্রি হতো চার থেকে পাঁচটি এসি। সেখানে গরম যতই বাড়ছে ততই আমাদের শোরুমগুলোতেও বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা। কোন ধরনের এসির চাহিদা বেশি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেড় টনের ইনভার্টার এসির চাহিদা অনেক বেশি। দেড় টনের এই এসিতে বিদ্যুৎ বিল কম আসায় ক্রেতারা বেশি কিনছেন। আমাদের ব্রাঞ্চে নগদ টাকায় এসি বিক্রির হারটা বেশি।’ 

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ওয়ালটন, সিঙ্গার, মিনিস্টার, ইলেক্ট্রোমার্ট, ট্রান্সকম, এসকোয়্যার,বাংলাদেশ, বাটারফ্লাই, র‌্যাংগ্স, ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল,  ভিশন, এলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, রোজার ঈদের পরে মূলত এ মৌসুমের এসি বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ ধরে বিক্রি বেশি বেড়েছে। 

কোম্পানিগুলোর ব্রাঞ্চ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ব্র্যান্ডভেদে প্রতিটি এসির দাম ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা বেড়েছে। তবে কেউ কেউ দাম বাড়ায়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দেড় বছর ধরে ডলার–সংকটের কারণেই মূলত এসির দাম বেশি বেড়েছে।

এদিকে রাজধানীর ইলেক্ট্রোমার্ট পল্লবী শোরুমে মিরপুর-১৩ বাসিন্দা তন্ময় রহমান ইনভার্টার দেড় টনের একটি এসি ক্রয় করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রচন্ড গরমে ফ্যান দিয়েও বাসাতে থাকা যায় না। এর চেয়েও বড় বিষয় বাসায় ছোট বাচ্চারা থাকায় এসি কেনা তাগিদটা বেশি। তাই ইনভার্টার দেড় টনের এসিটা কিনলাম। তবে এসি কিনলেও তা ফিডিং করতে সময় লাগবে পাঁচদিনের মতো।’ 

তিনি আরও বলেন, এই শোরুমে এসে আমি অবাক হয়েছি। এসি কেনার জন্য এত ভীড় আগে দেখিনি। শোরুমে সেলস ম্যানরা মোবাইলে মাধ্যমে ফরম পূরণ করছে। কারণ একটি কম্পিউটারে চাপ সামাল দিতে পারছিলেন না তারা।’ 

ওয়ালটনের এসি পণ্যের উপপ্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা সন্দীপ বিশ্বাস জানান, চলতি বছর তাদের প্রায় দুই লাখ ইউনিট এসি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তারা। গরমে এসির দাম বাড়ছে কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের ওয়ালটন এসির দাম আগেই মতই আছে। আমরা কয়েক কিস্তিতে ক্রেতাদের সুবিধা দিয়ে এসি বিক্রি করছি।

কোন ব্র্যান্ডের এসির কত দাম?

ওয়ালটন: ইনভার্টার এক টন ৬৫ হাজার টাকা, দেড় টন ৭৯ হাজার ৯৯০ টাকা, ইনভার্টার দুই টন ৯১ হাজার ৯৯০ টাকা।

সিঙ্গার: ইনভার্টার এক টন ৬০ হাজার, ইনভার্টার দেড় টন ৭৭ হাজার ৯১৩, ইনভার্টার দুই টন ৮৭ হাজার ৬৮৪ টাকা।

গ্রি: ইনভার্টার এক টন ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, দেড় টন ৮২ হাজার ৮৯০ টাকা, দুই টন ৯৫ হাজার ২৯০ টাকা।

ট্রান্সটেক: ইনভার্টার এক টন এসির দাম ৬৬ হাজার ৯০০ টাকা, দেড় টন ৭৮ হাজার ৭০০ টাকা, দুই টনের দাম ১ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা।

মিনিস্টার: ইনভার্টার দেড় টন ৭৪ হাজার ৯৯০, দুই টন ইনভার্টার ৮৬ হাজার ৯৯০ টাকা।

যমুনা: ইনভার্টার এক টন ৪৫ হাজার ৭২০ টাকা, ইনভার্টার দেড় টন ৬৫ হাজার ৫২০ টাকা, ইনভার্টার দুই টন ৭৮ হাজার ১২০ টাকা।

ভিশন: এক টন ৪৭ হাজার ১৬০ টাকা, দেড় টন ৬৫ হাজার ১৬০ টাকা, দুই টন ৭৪ হাজার ১৬০ টাকা।

ইকোপ্লাস: ইনভার্টার এক টন ৫৭ হাজার টাকা, ইনভার্টার দেড় টন ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইনভার্টার দুই টন ৯০ হাজার টাকা।

হায়ার: ইনভার্টার এক টন ৫৫ হাজার ৯৯০ টাকা, ইনভার্টার দেড় টন ৭৬ হাজার ৯৯০ টাকা, দুই টন ইনভার্টার ৮৮ হাজার ৯৯০ টাকা।

এলিট: এক টন ইনভার্টার ৪৯ হাজার ৫১৪ টাকা, দেড় টন ইনভার্টার ৬৫ হাজার ৭০৫ টাকা, দুই টন ইনভার্টার ৭৯ হাজার ৯০০ টাকা।

এলজি: ইনভার্টার এক টন ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা, দেড় টন ইনভার্টার এক লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ টাকা, দুই টন ইনভার্টার এক লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা।

হিটাচি: এক টন ইনভার্টার ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা, দেড় টন ইনভার্টার এক লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা, দুই টন এক লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।

স্যামসাং: ইনভার্টার এক টন এসির দাম ৮৪ হাজার ৯০০ টাকা, ইনভার্টার দেড় টন এক লাখ ৩ হাজার ৯০০ টাকা, ইনভার্টার দুই টন দাম এক লাখ ১৫ হাজার ৯০০ টাকা।

দামগুলো এসব ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো কোনোটির অফার মূল্যও রয়েছে। আবার কোনো কোনো মডেল স্টক আউটও থাকতে পারে। এদের আরও বিভিন্ন দামের এসি রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত