জাতীয় পতাকার নকশাকার শিবনারায়ণ দাসের মরণোত্তর দেহ দান

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৯ পিএম
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাসের মরণোত্তর দেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) দান করা হয়েছে। এর আগে শিব নারায়াণ দাস মরণোত্তর চোখের কর্নিয়াও দান করেছেন। 
 
রবিবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগের প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব অ্যান্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানুর কাছে এই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। 
 
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হক, জাসদ নেত্রী শিরীন আখতার, শিব নারায়ণ দাসের সহধর্মিণী গীতশ্রী চৌধুরী, পুত্র অর্ণব আদিত্য দাসসহ এনাটমি বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মরদেহের এমবামিং প্রক্রিয়ার শুরুতে মরদেহের যথোচিত সম্মান ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য শপথ গ্রহণ করা হয়।
 
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য এই ধরণের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা এবং মরণোত্তর দেহ দানকারীর ছেলে অর্ণব আদিত্য দাসসহ পরিবারের সকলকে এই ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের সকল মানুষের প্রতি এই রকম মহতী কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান। 
 
উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম ও মূল নকশাকার এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লা নিবাসী শিব নারায়ণ দাশ তার চোখের দু’টি কর্ণিয়াও দান করে গেছেন। ইতিমধ্যে সেই কর্ণিয়া দিয়ে দুই জন মানুষের চোখে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তিনি একজন মহান ব্যক্তিত্ব। তার এই দানে আমি অভিভূত ও গর্বিত এবং সম্মানিত বোধ করছি। তার মরদেহ প্ল্যাস্টিনেশন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাসের এই দেহ দানের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ জন বিদেশী ছাত্রছাত্রীসহ ৪ হাজার ৮০৭ জন চিকিৎসা পেশায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী ছাত্রছাত্রী প্রশিক্ষণ গ্রহণের ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন। তিনি মরণোত্তর দেহদানের মাধ্যমে মহত্বের অন্যন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন।
 
এ সময় অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু বলেন, ইতিমধ্যে ১৫০জন মানুষ মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করেছেন। মানুষ যেভাবে সাড়া দিচ্ছেন প্ল্যাস্টিনেশন ল্যাব এন্ড মিউজিয়াম কমপ্লেক্সটি একটি আন্তর্জাতিক মানের সমৃদ্ধ ল্যাবে শীঘ্রই উন্নীত হবে।
 
অর্ণব আদিত্য বলেন, আমার বাবা শিব নারায়ণ দাস আজীবন জ্ঞান অর্জনসহ দেশকে শিক্ষণীয় বিষয়ে সমৃদ্ধ দেখতে চেয়েছেন। সে লক্ষেই তিনি তাঁর জীবন দান করে গেছেন। আমি ও আমার মাও মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছি। আপনারা সবাই আমাদেরকে আশীর্বাদ করবেন। 
 
উল্লেখ্য, শিব নারায়ণ দাশ গত ২১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত