দেশের বেশিরভাগ জেলার ওপর দিয়ে কয়েকদিন ধরেই বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এই গরমে নাকাল হয়ে যাচ্ছে মানুষ। যদিও আগামী কয়েক দিন চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে তীব্র গরম আর যানজটে হাঁসফাসঁ অবস্থা বাসের হেলপার ড্রাইভার ও যাত্রীদের। রবিবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর সদরঘাট, গুলিস্তান, পল্টন, মহাখালীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গণপরবিহনে এসব চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিন দেখা যায়, বেশিরভাগ বাসে তীব্র গরমের মধ্যেও নেই ফ্যান। আর কয়েকটি বাসে ফ্যান থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগ বিকল হয়ে আছে। আর সচল ফ্যানের সংখ্যাও খুবই কম। এইভাবেই চলছে রাজধানীর সিটির গণপরবিহন।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা রিয়াজ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সদরঘাট থেকে গুলশান ২ যেতে হবে অফিসের কাজে। কিন্তু রাস্তায় যে গরম। অফিস থেকে বের হয়ে পরে গেলাম বিপাকে। তাছাড়া বাসের অবকস্থাও খুব খারাপ। এই গরমে বাসে ফ্যান ছাড়া যাওয়া খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আরেক যাত্রী মো. নাইম বলেন, গত কয়দিন ধরে বাসা থেকে বের হয়ে তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে গেছি। তারপরও কর্মের জন্য বাসা থেকে বের তো হতেই হবে। কিন্তু আমাদের সিটির গণপরবিহনের যে বেহাল দশা। এগুলো যেন দেখার কেউ নেই। বাসে ফ্যান থাকলেও নষ্ট থাকায় বন্ধ থাকে। অথচ ফ্যানগুলো যদি সচল থাকেতা তাহলে এই গরমে কিছুটা হলে কষ্ট কম হতো যাতায়াতে।
মহাখালীতে গাজীপুর পরবিহনের যাত্রী মো. সাব্বির বলেন, একদিকে তীব্র গরম। সেইসঙ্গে বাস আগে বাড়ছে না। ৩০ মিনিট সময় ধরে বসে আছি মহাখালীর সামনে। প্রচণ্ড রোদ্রে বাসে বসে হাঁসফাসঁ লাগছে। একটা সময় শহরে যে পরিমাণ গাছপালা ছিল সেটি এখন নেই। যার জন্য এই তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এখন কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। তাই সরকারের উচিত এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে সড়কের উন্নয়নের কাজ করা।
মিরপুর রোডে চলা দিশারী পরিবহনের হেল্পার সাকিল বলেন, আমাদের নিজেদেরও তো গরম লাগে। কিন্তু কি আর করার থাকে। বাসের মালিককে মাঝেমধ্যেই বলা হয় ফ্যানের অবস্থা খারাপ। পরবির্তন করে দেন। কিন্তু তারা এগুলো আমলে নেয় না। যার জন্য বাড়তি টাকা খরচ করে মালিকরা ফ্যান লাগায় না। তাই যাত্রীদের পাশাপাশি আমরা যারা পরবিহন শ্রমিক আছি তাদেরও এই গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে জানান এই হেল্পার।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, কয়দিনের তীব্র গরমে বাসে চলাচল করা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে যাত্রীদের। সিটির বাসগুলো যেগুলো আছে সেগুলোর বেশিরভাগের অবস্থা খুব খারাপ। স্বাভাবিক সময় গুলোতেই বাসে যে পরিমাণ ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেখানে এই চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে যাত্রীদের অবস্তা বেহাল হয়ে যাচ্ছে। বাসের সিটগুলো যেমন সংকীর্ণ সেইসঙ্গে বেশিরভাগে বাসে নেই ফ্যান।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ থেকে সড়কে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হয়। তখন কি তারা এসব বেহাল বাসগুলো দেখে না? তাই চলমান পরিস্থিরি কথা চিন্তা করে সব বাসের মান বৃদ্ধি ও ফ্যান লাগানোর দাবি জানান তিনি।
