বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খানের স্ত্রী সেহেলা পারভীনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে সনদ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের হেফাজতে (রিমান্ডে) পেয়েছে ডিবি।
গতকাল রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন সেহেলা পারভীনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এর আগে গত শনিবার রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে জানাতে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিবি।
ডিবি জানায়, ১ এপ্রিল রাজধানীর পীরেরবাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট একেএম শামসুজ্জামান ও একই প্রতিষ্ঠানের চাকরিচ্যুত ও বর্তমানে শামসুজ্জামানের ব্যক্তিগত বেতনভুক্ত সহকারী ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যে ৫ এপ্রিল কুষ্টিয়া থেকে গড়াই সার্ভে ইনস্টিটিউটের পরিচালক সানজিদা আক্তার কলিকে গ্রেপ্তার করে হয়। গ্রেপ্তার এই তিনজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কামরাঙ্গীরচর হিলফুল ফুযুল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে (৪৮) ১৮ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ঢাকা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান ওরফে মামুনকে (৪০) ১৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের স্ত্রী মোছা. সেহেলা পারভীনকে (৫৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, শাসমুজ্জামান ও তার ব্যক্তিগত সহযোগী ফয়সাল কয়েক বছরে পাঁচ হাজারের বেশি জাল সনদ ও নম্বরপত্র ভুয়া ব্যক্তিদের তৈরি করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি ওয়েবসাইটে, সরকারি পাসওয়ার্ড, অথরাইজেশন ব্যবহার করে ভুয়া লোকদের মধ্যে বিক্রি করা সার্টিফিকেটগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছেন। ফলে বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশে বসে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর গুললে সার্চ করলে তা সঠিক পাওয়া যায়।
