গরমে অস্বস্তি বেড়েই চলছে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৫৯ এএম

বাতাসে পানি যখন জলীয় বাষ্প হয়ে বাসা বাঁধে তখন নগরজীবনে গরমের কষ্ট বাড়ে। সপ্তাহখানেক ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বাতাস বইছে, তার সঙ্গে প্রচুর জলীয় বাষ্পও ঢুকছে। সারা দিন ধরে সূর্যের যে তাপ পড়ছে তা ধরে রাখছে জলীয় বাষ্প। ফলে গরমে অস্বস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে গায়ে লাগছে।

আজ বৃহ্স্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ৭২ ঘণ্টার আবাহওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজমান থাকতে পারে।

যদি কোনো একটি এলাকার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৭০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকে, এমন অবস্থাকে আবহাওয়াবিদেরা তীব্র কষ্টকর দিন হিসেবে চিহ্নিত করেন। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮২ শতাংশ। এ ছাড়া, ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত কয়েক দিন ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুধু ঢাকা নয়, দেশের ৩৯টি এলাকায় গতকাল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মোংলায় ৪১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে রাজশাহীতে ৪১.৩, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও ঈশ্বরদীতে ৪১.২, কুমারখালীতে ৪০.৮, দিনাজপুরে ৪০.৫, ফরিদপুরে ৪০.৪, খুলনায় ৪০.২, গোপালগঞ্জ ও সৈয়দপুরে ৪০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ খুলনা বিভাগসহ দিনাজপুর, নীলফামারী, রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও বান্দরবান জেলাসহ বরিশার বিভাগ এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে আজ দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল ও পরশু বিরাজমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা যদি ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে। ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয় যখন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। আর অতি তীব্র হয় ৪২ ডিগ্রি বা এর বেশি হলে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক হয়। ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয় মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ সময়টা খুবই শঙ্কার। চর্মরোগ, খিঁচুনি, ক্লান্তিবোধ, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত