রাজশাহীতে ভোটের মাঠে শুধুই আ.লীগ

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫২ এএম

প্রথম ধাপে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাঠে রয়েছে মূলত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই। তফসিল ঘোষণার পর জোর গুঞ্জন চলছিল এখানে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতারা ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা পিছিয়ে এসেছেন। এখন এই দুই উপজেলায় বিএনপির এক সাবেক নেতা ছাড়া আর কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। বাকি প্রার্থীরা সবাই আওয়ামী লীগ বা অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এ অবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) পক্ষের আর বিপক্ষের বলয়ের মধ্যে চলছে জোর প্রতিযোগিতা।

উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৮ মে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ভোটের প্রচার।

গোদাগাড়ী উপজেলায় পাঁচজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (কাপ-পিরিচ), গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি রবিউল আলম (আনারস), উপজেলা যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও সদ্য পদত্যাগকৃত দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল (দোয়াত-কলম), উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক সুনন্দন দাস (মোটরসাইকেল)। এ ছাড়া রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক যুববিষয়ক সম্পাদক সাজেদুর রহমান খান মার্কনি ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই দুই উপজেলার মধ্যে শুধু মার্কনিই বিএনপি ঘরানার প্রার্থী। তবে, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে দলীয় পরিচয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

এখানে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। তারা হলেন গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি সালমান ফিরোজ ফয়সাল ও আদিবাসী নেতা হুরেন মুর্মু।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। দুজনই আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা। তারা হলেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খাতুন মিলি এবং উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমতি কৃষ্ণা দেবী।

অন্যদিকে তানোর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। দুজনই আওয়ামী লীগ দলীয়। তারা হলেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না (কাপ-পিরিচ) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন (মোটরসাইকেল)।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। দুজনই আওয়ামী লীগের। তারা হলেন কলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি তানভীর রেজা ও তানোর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। তাদের মধ্যে দুজন সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা হলেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সরদার এবং উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক সাগরিকা ভৌমিক। অন্যজন হলেন সরনজাই ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নাসিমা খাতুন।

রাজশাহীর অন্য উপজেলাগুলোতেও ভোটের মাঠে লড়াই প্রধানত আওয়ামী লীগ বা অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানোর উপজেলায় দুজন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। অন্য প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরেই এমপিবিরোধী হিসেবে রাজনীতির মাঠে রয়েছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন।

তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন ময়নার পক্ষে ভোটের মাঠে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ‘এমপি সাহেব এই ভোটে কোনো পক্ষের না, তিনি নিরপেক্ষ। তবে, ময়না যেহেতু দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতি করে আসছেন, এ কারণে নেতাকর্মীরা তার পক্ষে রয়েছেন।’

দুই প্রার্থীর একজন এমপির পক্ষের, একজন তার বিপক্ষের এ প্রসঙ্গে স্বপন বলেন, এটা এলাকার মানুষ হয়তো মনে করে।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনে আলোচনায় তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। প্রচারে এগিয়ে থাকা এই তিনজনের একজন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এবারের ভোটে সংসদ সদস্যের বলয়ে যারা চলাফেরা করে, তারা জাহাঙ্গীরের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। বাকিরা তার বিপক্ষে। আলোচিত আরেক প্রার্থী রবিউল আলম। গত সংসদ সদস্য নির্বাচনে যারা এমপি ওমর ফারুকের বিপক্ষে মাঠে ছিলেন, তারা আলমের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। এমপি ভোটে পরাজিত গোলাম রাব্বানীও আলমের পক্ষে কাজ করছেন। আরেকজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর নামও আলোচনায় আসছে। তিনি হলেন সদ্য পদত্যাগকৃত দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল। সোহেল গত জাতীয় নির্বাচনে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর পক্ষে মাঠে কাজ করলেও এবারে তিনি এমপি বলয়ের প্রকাশ্য সমর্থন পাচ্ছেন না। আবার এমপিবিরোধী অংশও তার পক্ষে না গিয়ে সরাসরি আলমের সঙ্গে কাজ করছেন। এই উপজেলায় এই তিন নেতারই কেউ একজন বিজয়ী হবেন বলে মাঠের চিত্র বলছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রচারে নেমে তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থনও ব্যাপকভাবে পাচ্ছেন বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম। আরেক আলোচিত প্রার্থী রবিউল আলম বলেন, দিন যত যাচ্ছে জোয়ার তৈরি হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের বড় একটা অংশ তার পক্ষে মাঠে কাজ করছেন বলে দাবি করেন রবিউল আলম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত