মণিপুরে হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ২ সদস্য নিহত

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৪ এএম

লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণের পর রাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আবার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় হামলায় নিহত হয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) দুই সদস্য। আহত হয়েছে আরও দুজন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিষ্ণুপর জেলার নারানসিনা গ্রামের পাহাড় থেকে সন্দেহভাজন কুকি বিদ্রোহীরা নিচে সিআরপিএফের একটি ফাঁড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ফাঁড়ির কাছাকাছি একটি বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার পর দুইপক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় সিআরপিএফের চার সদস্য গুরুতর আহত হয়। তাদের দ্রুত নিকটবর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়।

ভারতের চলমান লোকসভা নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের পর ওই সিআরপিএফের জওয়ানরা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাটেলিয়নের (আইআরবি) ফাঁড়িতে অবস্থান করছিল। আইআরবির এই ফাঁড়িতেই হামলা হয়।

পিটিআইয়ের খবরে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘জঙ্গিরা পাহাড় থেকে ফাঁড়ি লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে এটি শুরু হয়, চলে প্রায় সোয়া ২টা পর্যন্ত। জঙ্গিরা বোমাও নিক্ষেপ করে।’

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মণিপুর সংকটের প্রথম বার্ষিকীর ছয় দিন আগে হামলার এ ঘটনাটি ঘটল, সামনের দিনগুলোতে হামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

২০২৩ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে নারানসিনা গ্রামে ও আশপাশে মণিপুরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেইদের সঙ্গে কুকি-জো সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যাপক গুলির লড়াই শুরু হয়। উভয় পক্ষই নিজেদের ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক’ বলে দাবি করে পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে থাকে।

মণিপুরের পাহাড়ি উপত্যকাগুলোতে প্রধানত মেইতেই নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন বসবাস করে আর কুকিরা বাস করে পাহাড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত