চিত্রনায়ক শাকিল খান এ দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে পরিচিত মুখ। ১০ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পর্দায় এখন তাকে দেখা যায় না। চলচ্চিত্র ছেড়েছেন। বিগত নির্বাচনে ও এর আগের সংসদ নির্বাচনেও অভিনেতাকে মাঠে দেখা গেছে। রাজনীতি, অভিনয়, চলচ্চিত্র ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শাকিল খানের মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন
নির্বাচনে মনোনয়ন তো পেলেন না, এখন কী করছেন তাহলে?
আসলে নির্বাচন করতে চাওয়া তো মূলত মানুষের সেবা করা, মানুষের সেবার জন্যই জনপ্রতিনিধি হতে চেয়েছি। অনেকেই রাজনীতি করছে, করতে চেয়েছে টাকা কামানোর জন্য। আমার উদ্দেশ্য তো তেমন ছিল না। আমি মানুষের সেবা করতে চেয়েছি, সেটাই করছি। স্থানীয় বেকার যুবকদের নিয়ে কাজ করছি, কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছি। রাজনৈতিকভাবে যারা হয়রানির শিকার তাদের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার গ্রামে গেলে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন।
তাহলে তো আপনি ভালোভাবেই রাজনীতিতে জড়িয়ে গেছেন?
আসলে আমার বাবা ও চাচা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। দেশের জন্য তাদের গভীরে ভালোবাসা ছিল। আমিও তাদের পথ অনুসরণ করছি। অনেকেই রাজনীতি করতে এসেছে, তারা নেতা হয়ে গেছে। দুই হাতে টাকা আয় করছে, কিন্তু গ্রামের মানুষকে দেখছে না; বরং প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এমন মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। আমি আসলে মানুষের সেবা করতে চেয়েছি। মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে এই সেবাটা হয়তো বড় পরিসরে হতো।
রাজনীতির বাইরে চলচ্চিত্র বা অন্য আর কিছু করছেন?
না, চলচ্চিত্রের সঙ্গে আমি এখন নেই। চলচ্চিত্র আমার ভালোবাসার জায়গা, এই চলচ্চিত্রের জন্য মানুষ শাকিল খানকে চেনে। তাই এই জায়গাটা সব সময় সেভাবেই থাকবে। এখন চলচ্চিত্রের সঙ্গে নেই। যখন ডাকবে, তখন ঠিকই চলে আসব। আর আমি পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আমাদের জাহাজের ব্যবসা রয়েছে। রয়েছে সিঅ্যান্ডএফ ও গার্মেন্টস ব্যবসা, সেসব দেখছি। আর পরিবারকে সময় দিচ্ছি। এর বাইরে আমার কোনো জগৎ নেই।
চলচ্চিত্র ছেড়েছেন কেন?
আমরা যে সময় কাজ করতাম তা থেকে চলচ্চিত্রের পরিবেশ ক্রমে বদলে গেছে। একটা সময় খেয়াল করলাম এখানে কাজের পরিবেশ নেই। তাই অভিনয়টা ছেড়ে দিতে হলো।
চলচ্চিত্রের সঙ্গে নেই, কিন্তু এই যে কদিন আগে নির্বাচন হলো, সে বিষয়ে কিছু বলেন...
আসলে এখন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে। কদিন আগে শিল্পী সমিতির নির্বাচন হলো, এটা নিয়ে এত আলোচনার কী আছে? শিল্পী সমিতি একটা সংগঠন মাত্র। যেমন ফাইটারদের, নৃত্যশিল্পীদের সংগঠন রয়েছে, তেমনি একটা সংগঠন। এই সমিতির নির্বাচন নিয়েও অনেকে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এটা দুঃখজনক।
চলচ্চিত্রের অনুদান নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, খেয়াল করেছেন?
দেখুন, আমি খুব ভালো করে খেয়াল করেছি। চলচ্চিত্র বানানোর জন্য, চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী এত আন্তরিক। তিনি বাবার মতোই এই ইন্ডাস্ট্রিকে ভালোবাসেন। তাই তিনি অনুদান অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু এই অনুদান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অযোগ্যদের হাতে চলে যাচ্ছে। আমি মনে করি কারা অনুদান পাবে, সেটা আরও পরিচ্ছন্ন হওয়া দরকার। কেননা চলচ্চিত্রের উন্নয়ন দরকার। অনুদান নিয়ে কোনো রকম একটা সিনেমা বানালেই হবে না, ভালো সিনেমা বানাতে হবে।
