আমরা এতদিন জানতাম শুধু ধান থেকে উৎপন্ন হয় চাল। তবে এ ধারণাকে কিছুটা হলেও ভুল প্রমাণ করেছে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার আদিবাসী সম্প্রদায়। বাঁশের ফুল সংগ্রহ করে নানা প্রক্রিয়ায় ধানের মতোই উৎপন্ন করছে চাল। সেই চাল থেকে হচ্ছে ভাত, আটা, পায়েস এবং তৈরি হচ্ছে রুটি। বাঁশের ফুল থেকে চাল সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি বেশ পুরনো হলেও দীর্ঘদিন পর নতুন করে ব্যবহার হওয়ায় শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। কৃষি বিভাগ বলছে এগুলো চাল নয়, বাঁশের ফুলের দানা। ঔষধিগুণ অনেক।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের লালদীঘি গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাস। এই গ্রামের আশপাশে প্রচুর কাঁটাযুক্ত বাঁশের থোপ রয়েছে। এসব বাঁশে ১২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে যে কোনো সময় ফুল ফোটে। এসব ফুলে ধানের মতো থোকায় থোকায় বীজ থাকে। গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায় সেই বীজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এক ধরনের দানা বের করে, যা দেখতে অবিকল চালের মতো। সেসব দানা দিয়ে রান্না হচ্ছে ভাত, তৈরি হচ্ছে পায়েসসহ মুখরোচক খাবার, আটা, ছাতু এবং রুটি। আদিবাসী সম্প্রদায় বলছেন, বেড়া বাঁশের মরে যাওয়ার সময় হয় ফুল আসে। ১২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে একবার ফুল আসে। এসব বাঁশের ফুলের দানা খাবার ছাড়াও বিয়েসহ বিভিন্ন আয়োজনে ব্যবহার করে আসছেন তারা। কৃষি বিভাগ বলছেন, এটি ঔষধি গুণ সম্পন্ন খাবার। স্থানীয় আদিবাসীদের অভিযোগ, দিন দিন বেড়া বাঁশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এর ফুলেরও উৎপাদন কমে গেছে। বেড়া বাঁশের উৎপাদন বাড়ানো গেলে ব্যতিক্রমী এ খাদ্যপণ্যের ব্যবহার বাড়বে। আদিবাসী গ্রামের দিনমজুর যোশেফ মুর্মু (৬৫) বলেন, আমার মায়ের বিয়ে এ চাল দিয়ে হয়েছে বলে শুনেছি। আমাদের গ্রামে বহু বছর থেকে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। আমাদের ব্যবহার দেখে আশপাশের অনেকেই এর ব্যবহার করছে। পটকে কিছকু নামে আরেক গৃহবধূ বলেন, আমি ১২ বছর আগে একবার খেয়েছি এই চালের ভাত। অনেক দিন পর এ বছর নিজেই ফুল থেকে চাল করে ভাত, রুটি বানিয়ে খাচ্ছি। একই গ্রামের শুশীল মর্মু বলেন, আমার দাদারা এভাবে চাল সংগ্রহ করতেন। আমরা ২০ বছর আগে একবার চাল সংগ্রহ করেছিলাম। এ বছর আমার দুই ভাই ৩ থেকে ৪ মণ চাল করেছি।
