নিউ ইয়র্কে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের গুলি করা হয়। নিহত দুজন হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ইউসুফ মিয়া এবং কুমিল্লার বাবুল উদ্দিন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পুলিশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও রেডিওর মাধ্যমে দুজনকে হত্যা করার কথা জানিয়েছে।

বাফেলোর কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট হাবিব রহমান বলেন, নিহত দুজন তাদের প্রতিবেশী। হত্যাকাণ্ডের সময় শহরের পূর্বাঞ্চলে হ্যাজেলউড এলাকায় বাবুল উদ্দিন নিজের বাড়ি সংস্কারের কাজ করছিলেন। তার সঙ্গে ইউসুফ মিয়া ছিলেন। তিনি বলেন, বাবুল আট মাস আগে ভার্জিনিয়া থেকে বাফেলোতে আসেন। ইউসুফ চার মাস আগে সিলেট থেকে আসেন। তাদের নিহত হওয়ার খবরে বাঙালি সমাজে শোক ছড়িয়ে পড়ে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

হাবিব রহমান আরও বলেন, ‘বাবুল ভাইয়ের সাত সন্তান। ইউসুফ ভাইয়ের দুই সন্তান। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই।’

বাফেলোতে বসবাসরত কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও সাংবাদিক মতিউর রহমান লিটু জানান, গুলিতে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান অন্যজন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউজিআরজেড জানায়, গুলির ঘটনার পর একটি সোয়াট টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। স্থানীয়দের বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। তারা ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে বাফেলোর ইয়ং স্ট্রিটের ফার্স্ট ব্লকে ৩১ বছর বয়সী এক তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার দেহে একাধিক গুলির ক্ষত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বাফেলো পুলিশের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিম পুরো এলাকা ঘেরাও করে রেখেছে। পরপর এমন ঘটনায় কানাডা সীমান্তসংলগ্ন বাফেলোতে বসবাসরত অর্ধলক্ষাধিক প্রবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কমিউনিটি লিডার আবুল বাশার এবং সাংবাদিক মতিউর রহমান লিটু জানান, তারা গতকাল দুপুরে ৯৯৫ ফিলমোর অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি রেখেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পর আজ সোমবার দুজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

বাফেলোর ‘স্টপ দ্য ভায়োলেন্স কোয়ালিশন’-এর নির্বাহী পরিচালক মুরে হোলম্যান স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেন, ‘বাফেলো সিটিতে বসবাসরতরা শান্তিপ্রিয় এবং কখনো কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। এমন অবস্থায় কঠোর পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশিরা আক্রান্ত হলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।’

প্রতিবেশী ক্রিস্টাল তরলাকোভিচ ডব্লিউজিআরজেডকে জানান, ভয়াবহ! এটা ভয়াবহ ঘটনা।

যে বাড়িতে হামলা হয়েছে, তার পাশের বাড়িতে থাকেন তরলাকোভিচ। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য বিষয়টা খুবই ভীতিকর কারণ এখানে শুধু আমি আর মা বসবাস করি।’

কী ঘটেছে, সে সম্পর্কে তরলাকোভিচ নিশ্চিত নন বলে জানান। তিনি আরও জানান, হামলার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাজারে গিয়েছিলেন। এ সময় তার মা তাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেন কখন বাড়ি ফিরবেন। তখন তিনি রাস্তার ওপারে হামলার বিষয়টি জানতে পারেন।

‘এই মহল্লায় এ ধরনের ঘটনা বিরল। ইস্ট সাইডে কিছুটা সমস্যা এর আগেও হয়েছে, কিন্তু এরকম ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি’, যোগ করেন তরলাকোভিচ।

আমাদের কুমিল্লার আঞ্চলিক প্রতিনিধি জানান, বাবুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বড় ভাই, বোন ও আত্মীয়স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরের হরিপুর গ্রামে। বাবুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা ছুটে এসেছেন।

বড় ভাই হাবিবুর রহমান ও ভাগ্নে আবদুল মজিদ জানান, বাবুল ১৯৯১ সালে ডিভি লটারিতে আমেরিকা যান। ২০১০ সালে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে যান। এক বছর আগে একবার বাড়ি এসেছিলেন। বাফেলো শহরে তার আবাসন ব্যবসা রয়েছে। সিলেটের ইউসুফ তার অংশীদার। তারা শুনেছেন, স্থানীয় এক সন্ত্রাসী এসে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাদের প্রথমে ছুরিকাঘাত ও পরে গুলি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত