মৌলভীবাজারে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ। আগামী বর্ষার আগে বাঁধের কাজ শেষ না হলে এবার বন্যার আশঙ্কা করছেন শহরবাসী। একই সঙ্গে নদী রক্ষা প্রকল্পের টাকা ফেরৎ যাওয়ারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মনু নদীর ভাঙন থেকে মৌলভীবাজারের সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা রক্ষা প্রকল্পের আওতায় সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৮৬ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। গত ৩২ মাসে গাইড ওয়াল নির্মাণ, বাঁধ উঁচুকরণ ও ব্লক ফেলাসহ ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এসব কাজের মধ্যে ১৭ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্যাকেজের অন্যতম কাজ ছিল মৌলভীবাজার সদর উপজেলা শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ২১ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা। এটি ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই শহরের উজানের (পূর্বপ্রান্ত) ৮ কিলোমিটার মনু নদী বাঁধ চওড়া ও উঁচুকরণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে বিপত্তি দেখা দিয়েছে, শহর সংলগ্ন নদীর বাম তীর শাহবন্দর থেকে নতুন ব্রিজ এলাকার সাড়ে ৬ কিলোমিটার এবং ডান তীরের বলিয়ারভাগ থেকে নওয়ারাই পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার ও ডান তীরের নতুন ব্রিজ থেকে মীরপুর এলাকার দেড় কিলোমিটার বাঁধের কাজে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রেকর্ড অনুযায়ী বাঁধের এই ১৩ কিলোমিটার জমির মালিক ব্যক্তিমালিকানা, প্রশাসন, পাউবো এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের। আগে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে দিলেও এখন আর নতুন করে অনেকে জমি দিতে রাজি নয়। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের রেকর্ডভুক্ত জমি থাকাতে কাজে আপত্তির কথা জানা গেছে। এতে করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঁধার সম্মুখীন হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, ৮ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে শহরের মূল জায়গায় কাজ করতে গেলে ভূমি জটিলতায় বাঁধ উঁচুকরণ ও চওড়াসহ অন্যান্য কাজ করতে পারেননি। এতে বাধ্য হয়ে বাঁধের কাজ বন্ধ রেখেছেন। প্রায় তিন মাস ধরে বাঁধের কাজ পুরোপুরি বন্ধ।
এদিকে, বাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও শহরের বড়হাট এলাকায় বাঁধের ১৩ কিলোমিটার অংশে গাছগাছালি কাটায় বাঁধ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, জমি জটিলতায় নকশা অনুযায়ী কাজে বিলম্ব হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম জানান, বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি সরেজমিনে গিয়ে তা তদন্ত করবে।
