চেনা রূপে ফিরেছে নারী ফুটবল লিগ। অনামী-অখ্যাত দল দিয়ে লিগ আয়োজনে যেটা অতীতেও দেখা গেছে, সোমবার তারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। লিগের তৃতীয় দিনে এক ম্যাচেই হয়েছে ১৯ গোল। সব গোলই করেছে একটি দল। বসুন্ধরা কিংস নেই। তবে তাদের সব ফুটবলার নিয়ে সেরা দল গড়েছে নাসরিন স্পোর্টস অ্যাকাডেমি। সেই দলটি ১৯-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে জামালপুল কাচারিপাড়া একাদশকে।
নতুন ঠিকানায় গিয়েও পুরানো রূপে দেখা দিয়েছেন সাবিনা খাতুনরা। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সাবিনা হ্যাটট্রিকসহ করেছেন চার গোল। তার সমান গোল আছে সামসুন্নাহার জুনিয়র ও মারিয়া মান্ডারও। দুটি করে গোল মাসুরা পারভীন, সানজিদা আক্তার, বদলী মাতসুসিমা সুমাইয়ার। আরেক বদলী মার্জিয়ার পা থেকে এসেছে এক গোল। গোলৎসবের এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নারী ফুটবল লিগের প্রথম রাউন্ড।
তীব্র তাপদাহের কারণে লিগের সুচীতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সোমবার একমাত্র ম্যাচটি শুরু হয়েছিল বিকেল পাঁচটায়। প্রচন্ড গরমে নাকাল হয়েও গোলের মালা গাঁথতে ভুল করেননি জাতীয় দলের তারকারা। ম্যাচ শুরুর ২৩ সেকেন্ডের মধ্যেই কাচারিপাড়ার জাল খুঁজে পেয়েছিলেন মনিকা চাকমা। তবে সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে প্রথম গোলের জন্য নাসরিনকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। তৃতীয় মিনিটে সাবিনার ফ্রি-কিকে হেড করে গোল করেন ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন। এর তিন মিনিট পর সামসুন্নাহার সিনিয়রের ক্রসে গোলের খাতা খোলেন আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া নারী ফুটবলের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা সাবিনা। অস্টম মিনিটে ৩-০ করেন সামসুন্নাহার জুনিয়র। ডান দিক থেকে শিউলি আজিমের ক্রসে নিঁখুত প্লেসিংয়ে গোলৎসবে যোগ জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই গোল হয়েছে। দশম মিনিটে মাসুরা পান দ্বিতীয় গোলের দেখা। ১৭ মিনিটে সাবিনা পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান। ৩০ মিনিটে সানজিদার পা থেকে আসে দলের ষষ্ঠ গোল। ৪০ মিনিটে সাবিনা ফের গোল করেন। এর দুই মিনিট পর সানজিদার পা থেকে আসে আরেক গোল। তাতে প্রথমার্ধেই ৮ গোলের লিড নেয় নাসরিন।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে দলটি। এই অর্ধ্বে তারা আরও ১১ গোল করে। মারিয়া মান্ডা খোলস ছেড়ে বের হয়ে হ্যাটট্রিকসহ করেন চার গোল। এছাড়া সাবিনা ও সামসুন্নাহার জুনিয়রও হ্যাটট্রিক পূরণ করেন অনায়াসে। বদলী নেমে সুমাইয়া ও মার্জিয়া দু'জনে মিলে করেন তিন গোল। ভুরি ভুরি গোলের এই এক পেশে ম্যাচে ফের প্রকাশিত হয় দায়সাড়া নারী ফুটবল লিগের মান।
