একদিকে স্বদেশে যুদ্ধ আর মৃত্যুর বিভীষিকা, অন্যদিকে মাঠে টিকে থাকার লড়াই। ঘরের মাঠে যখন বোমা আর মিসাইলের গর্জন, তখন সুদূর অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে ফুটবল যুদ্ধে নামতে হয়েছিল ইরান নারী ফুটবল দলকে। সোমবার এএফসি নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ০-৩ গোলে হেরেছে তারা।
তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরে গোটা দেশ যখন শোকস্তব্ধ, সেই মানসিক চাপ নিয়েই মাঠে নামেন জোহরা ঘানবারি ও মারিয়াম ইয়েকতাইরা। ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় ইরানি ফুটবলারদের চোখে-মুখে ছিল বিষণ্ণতা। কোচ মার্জিয়ে জাফরি যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, বরং পুরো মনোযোগ ফুটবলে রাখার চেষ্টা করেছেন। গ্যালারিতে থাকা একদল ইরানি সমর্থক পতাকা উড়িয়ে নিজ দেশের মেয়েদের উৎসাহ জুগিয়েছেন।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়া (২১তম) শুরু থেকেই ইরানকে (৬১তম) কোণঠাসা করে রাখে। ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বল দখল ছিল প্রায় ৭৯ শতাংশ এবং তারা মোট ৩২টি শট নেয়। বিপরীতে ইরান মাত্র ৩টি শট নিতে সক্ষম হয়। ইরানের গোলরক্ষক মারিয়াম ইয়েকতাই দুর্দান্ত কিছু সেভ করলেও কোরীয়দের আক্রমণ রুখে দেওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের ৩৭ মিনিটে চোর ইউ-রির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোরীয়রা ২০টি শট নিলেও ইরানের রক্ষণভাগ বিরতি পর্যন্ত ব্যবধান ১-০ তেই আটকে রাখতে সক্ষম হয়। ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কিম হাই-রি। এরপর ৭৫ মিনিটে দলের অধিনায়ক কো ইউ-জিন হেডের সাহায্যে তৃতীয় গোলটি করে ইরানের পরাজয় নিশ্চিত করেন।
অস্ট্রেলিয়ার তারকা ফুটবলার স্যাম কার এই কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করার জন্য ইরানের মেয়েদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার গোল্ড কোস্টেই ইরানের পরবর্তী প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।
ইরানের বিশ্বকাপ বয়কটের আশংকা, বিকল্প হতে পারে দুই দেশ