যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ এখনো বন্ধ হয়নি। বরং দাবির পক্ষে অনড় থাকায় বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে গণগ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে মার্কিন প্রশাসন। গত ১৮ এপ্রিল থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে কমপক্ষে ৯ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে গত রবিবার হোয়াইট হাউজের তরফ থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৭৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত ১৮ এপ্রিলের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ফিলিস্তিনপন্থি শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সেই আন্দোলনের ঢেউ লাগে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত শনিবার নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিসহ আরও কয়েকটি ক্যাম্পাস থেকে ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০০ জনের মতো ফিলিস্তিনপন্থিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কারবি বলেন, ‘মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি মার্কিন প্রশাসন শ্রদ্ধা পোষণ করে। কিন্তু বিক্ষোভ থেকে ইহুদিবিদ্বেষের ভাষা আমরা শুনতে পেয়েছি, যা নিন্দনীয়।’
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে গত শনিবার আটক হন গ্রিন পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জিল স্টাইন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের মারমুখী আচরণের সমালোচনা করেছিলেন তিনি। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তিনি বাকস্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানান।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পরও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে সোচ্চার হয়েছে এখন। দেশটির ইতিহাসে ফিলিস্তিনের পক্ষে এমন জোয়ার নজিরবিহীন। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত কোম্পানি বা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা বা বিনিয়োগ বন্ধে তাদের ওপর তেমন কোনো প্রভাব নাও পড়তে পারে।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফিলিস্তিনে চলতে থাকা গণহত্যা থেকে যেসব কোম্পানি বা সংস্থা লাভবান হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমরা সেসব কোম্পানির সমস্ত বিনিয়োগ সরিয়ে ফেলতে বলেছি।’
