কেনিয়ায় বাঁধ ভেঙে নিহত ৪৬, নিখোঁজ ৭৬

  • কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের কাছে ৭৬ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য রয়েছে
  • বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন
  • গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে বন্যা ও অন্যান্য বিপর্যয়ে কেনিয়াজুড়ে কমপক্ষে ১৬৯ জন মারা গেছে. বাড়িঘর ছেড়েছে এক লাখ ৮৫ হাজারের বেশি কেনিয়ান
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৩৪ পিএম

কেনিয়ার নাকুরু কাউন্টির মাই মাহিউতে একটি বাঁধ ভেঙে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রশাসন বলছে, বর্তমানে সেখানে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় পূর্ব আফ্রিকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার সকালে বাঁধ ভেঙে অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা পানির ঢেউয়ের বর্ণনা দিয়েছেন যা তাদের বাড়িঘর, গাড়ি এবং রেললাইন ভাসিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা অ্যান গ্যাচি বলেন, ‘আমি দরজা খুলতেই রান্নাঘর দিয়ে পানি ঢুকে যায়। আমার স্বামী দ্রুত বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। পাশের ঘরে আমার মেয়েরা ছিল। তাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আহত নারীকে নিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারীরা। ছবি: এপি

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাই মাহিউতে ৫৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। তবে কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের কাছে ৭৬ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য রয়েছে। এছাড়া গারিসা কাউন্টিতে সপ্তাহান্তে নৌকাডুবিতে চারজন মারা গেছে। বন্যার পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৩ জনকে। সেখানে ১৬ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে পূর্ব আফ্রিকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা ও অন্যান্য বিপর্যয়ে কেনিয়াজুড়ে কমপক্ষে ১৬৯ জন মারা গেছে। বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজারের বেশি কেনিয়ান।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর ভেসে যাওয়া একটি বাস। ছবি: এপি

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেনিয়ায় এল নিনোর আবহাওয়ার ধরণ দেখা যাচ্ছে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট জলবায়ু প্যাটার্ন, যা সাধারণত বিশ্বব্যাপী তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে বিশ্বের কিছু অংশে খরা এবং অন্যত্র ভারী বৃষ্টিপাত হয়। গত বছরের শেষ দিকে কেনিয়ার এল নিনো আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয় এবং কয়েক দশকের মধ্যে পূর্ব আফ্রিকার বিশাল অংশে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত