যশোরে নিখোঁজের দুই দিন পর এক ইজিবাইক চালকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যা করে তার ইজিবাইক ছিনতাই করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। নিহত ইমন (১৯) অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের পুড়াটাল গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।
যশোর কোতয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, মঙ্গলবার সকালে যশোর সদরের বসুন্দিয়ার সাদুল্যাপুরে ভৈরব নদে বস্তাবন্দী একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে জানা যায় মরদেহটি দুই দিন আগে নিখোঁজ ইজিবাইকচালক ইমনের। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।
তারা হচ্ছে যশোর সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের রাকিব হোসেন ও অভয়নগর উপজেলার শুভরাঢ়া গ্রামের মিরাজ শেখ। সে বর্তমানে অভয়নগরের প্রেমবাগ বাবলাতলায় বসবাস করে। আটকরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
ইজিবাইক ছিনতাইয়ের জন্য ইমনকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।
নিহত ইমনের পিতা আবুল কালাম জানান, গত ২৮ এপ্রিল ভোর ৬টায় ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ইমন। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাইক স্ট্যান্ডে খোঁজ নিলে অন্য চালকরা জানায়, সবশেষ বসুন্দিয়ার দিকে ভাড়া নিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। অবশেষে পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে নয়টায় নদীর পাড় থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। পরবর্তীতে তারা একটি বস্তায় ভরা লাশ সাদৃশ্য কিছু ভেসে থাকতে দেখেন। পুলিশকে খবর দিলে মুহূর্তের মধ্যে পুলিশ, পিবিআই, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম ঘটনাস্থলে আসেন এবং লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ইমনের কাছে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে পিবিআই।
