বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ মে) দুপুরে শায়রুল কবির খান জানিয়েছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বিকেল ৪টায় বসবেন। এরপর সিদ্ধান্ত দেবেন তারা।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির জানান, মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকের পর খালেদা জিয়া বাসায় ফিরবেন না কি তাকে হাসপাতালে রাখা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
এদিকে খালেদা জিয়ার এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিছুদিন পর পর খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হয়। এ জন্য গতকাল বুধবার তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেসবের রিপোর্ট নিয়ে দুপরে চিকিৎসকরা বসবেন। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ তিনি বলেন, ‘মাঝে মধ্যে খালেদা জিয়ার শ্বাস কষ্ট হয়। এ জন্য তাকে অক্সিজেন দেওয়ার দরকার। তাছাড়া মাঝে মধ্যে ফুসফুসে পানি জমে। সে পানি বের করতে হয়।’
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে ডা. জাহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনার পর তার কিছু শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা রাতে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন, হাসপাতালে রেখেই আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে।’
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আবারও খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে শারীরিক কিছু জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ৭টা ৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, হৃদ্রোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন।
গত বছরের ৯ আগস্ট খালেদা জিয়াকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে গত ১১ জানুয়ারি তিনি বাসায় ফেরেন। সে সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিতে তাঁর পরিবার থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি। এমন পরিপ্রেক্ষিতে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসনের রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয় গত বছরের ২৭ অক্টোবর।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়ার রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তার স্বাস্থ্য কিছুটা স্থিতিশীল হলে সে দফায় পাঁচ মাসের বেশি সময় পর তাকে বাসায় নেওয়া হয়েছিল।
দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা প্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজা ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার।
