একই পরিবারের এত মৃত্যু কেন?

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ১০:০৬ পিএম

দেশের সড়কগুলোতে দিন দিন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এনিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই দেশবাসীর। দুর্ঘটনা হলে ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় বন্ধ করে দেয়। প্রশাসনের আশ্বাসে আবার ছেড়েও দেয়। কিন্তু কার্যত কিছুই হয় না। 

গতকাল বুধবারেও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর হরিতলা এলাকায় ট্রাক ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে এক মাসের ব্যবধানে ফরিদপুর সদরে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজন প্রাণ যায়। এতে করে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১০জনের মতো একই পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয় সড়কে। 

গত মার্চ মাসেও ৫৫২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৬৫ জন নিহত হযেছে। আর ১ হাজার ২২৮ জন আহতের কথা জানা যায় গণমাধ্যমে। তবে সম্প্রতি সময়ে একই পরিবারের মুত্যুর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মাসে যে দুর্ঘটনা ঘটে সেই পরিবারের প্রধান কর্তা রফিক ঢাকায় একটি সরকারি অফিসে লিফটম্যানের চাকরি করেন। ঈদের ছুটি শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সকালে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। বাসে সিট না পেয়ে পথে আলফাডাঙ্গা উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপে উঠেছিলেন তারা। পথে ঢাকা থেকে মাগুরাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আর মাধবপুরের যে নিহত ঘটনা ঘটে সেই প্রাইভেট কারের যাত্রী ছিল নিহতরা। তাদের বাড়ি বরিশালে। তারা হযরত শাহজালালের মাজারে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। 

একই পরিবারের দুর্ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেশিরভাগ সময় উৎসবে একই পরবিারের মুত্যর খবর পাওয়া যায়। দলবদ্ধ যাত্রায় ঝুকিপূর্ণ যানবাহনও অনেকটাই দায়ী থাকে এই একই পরিবারের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে। তবে মূলত দুই কারণে একই পরিবারের দুর্ঘটনা বেশি হয়। 

প্রথমটি হলো, অনেক পরিবার আছে সাধ আছে কিন্তু সামর্থ্য নেই। সে পরিবার গুলো দূরের যাত্রায় এক সাথে যেতে ভাড়া কম লাগানোর জন্য বাস দিয়ে যাতায়াত না করে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে দিয়ে যাতায়াত করে। আর মহাসড়কে এই যাত্রীবান্ধব যানে না যাওয়ায় দুর্ঘটনা হলে সবচেয়ে বেশি নিহত হয়। 

দ্বিতীয়টি হলো, অনেক পরিবারের সাধ আছে সামার্থ্য কিছুটা আছে। সেই পরিবারগুলো ভাড়া করা প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস দিয়ে মহাসড়কে যাতায়াত করে। কিন্তু সেই চালক টানা ট্রিপ দেওয়ায় নির্ঘুমভাবে গাড়ি চালাতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, এই টানা গাড়ি চালানোর ফলে মহাসড়কে এই আনন্দের যাত্রায় মৃত্যুর সামিল হয় অনেক পরবিারের একাধিক ব্যক্তি। যার জন্য সড়কে একই পরিবারের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে দেখা যায় বলে জানান তিনি। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত