প্যারিসে ডর্টমুন্ডকে হারাতেই হবে এমবাপ্পেদের

আপডেট : ০৩ মে ২০২৪, ০৬:১৮ এএম

সেমিফাইনালের প্রথম লেগটি ডর্টমুন্ডের মাঠে বলেই বরুসিয়াকে হাল্কাভাবে নেওয়ার সুযোগ ছিল না পিএসজির। হয়েছেও তাই। সিগনাল এদুনা পার্কের হলুদ সমুদ্রে ম্যাচ হেরে ফিরতে হয়েছে এমবাপ্পেদের। বুধবার রাতে পিএসজিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার পথে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে জার্মান ক্লাব।

ঘরের মাঠে এই নিয়ে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত রইল ডর্টমুন্ড। এর মধ্যে তারা জিতেছে ৭টি ম্যাচ, ড্র করেছে ৪টি। বুধবার রাতে ডর্টমুন্ডকে জয় এনে দেনে নিকলাস ফুলক্রুগ। প্রথমার্ধের ওই এক গোলেই মীমাংসা হয় ম্যাচের। আর পুরো ম্যাচ জুড়ে সমর্থকদের চোখের তৃপ্তি উপহার দিতে থাকেন জেডন সানচো।

পিএসজি ও ডর্টমুন্ড এবার ছিল একই গ্রুপে। সেই বার সিগনাল এদুনা পার্কে দুদলের ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। ৩৬তম মিনিটে ডর্টমুন্ড ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক নিজেদের অর্ধ থেকে বল বাড়ান উঁচু করে। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে প্রথম স্পর্শে দারুণভাবে বলের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ফুলক্রুগ। বাঁ পায়ের শটে দোননারুমাকে পরাস্ত করেন এ জার্মান ফরোয়ার্ড। পুরো গ্যালারি মেতে ওঠে আনন্দের আতিশয্যে।

নিজের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ আসরে ডর্টমুন্ডকে ফাইনালে ওঠার সমীকরণে এগিয়ে রাখার কৃতিত্ব নিজের করে নেন ৩১ বছরের ফুলক্রুগ। এটি তার আসরের তৃতীয় গোল। তিনটি অ্যাসিস্টও রয়েছে ফুলক্রুগের।

প্রথমার্ধে খোলসে মুড়িয়ে থাকা পিএসজি জ্বলে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধে। ৬০তম মিনিটে সুযোগ এসেছিল স্বাগতিকদের ব্যবধান দ্বিগুণ করার। মেন্ডেসকে কাটিয়ে ফুলক্রুগের উদ্দেশ্যে বল এগিয়ে দিয়েছিলেন সানচো। ভালো পজিশনে বল পেয়েও তা উড়িয়ে মারেন ফুলক্রুগ। ডর্টমুন্ডের এই জয়ে জার্মান ফুটবলের জন্যও এসেছে সুখবর। কো-এফিশিয়েন্ট র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে গিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বদলে এবার জার্মান বুন্দেসলিগার পঞ্চম দল সরাসরি খেলতে পারবে আগামী মৌসুমের ৩৬ দলের চ্যাম্পিয়নস লিগে। ম্যাচ শেষে ডর্টমুন্ড কোচ এডিন টেরজিক খুশি হলেও পুরোপুরি তৃপ্ত নন, ‘আমরা দলগতভাবে ভালো খেলেছি, প্রাপ্য জয় পেয়েছি। আমরা জানি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সামনের সপ্তাহে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে তারা শক্তি প্রদর্শন করবে।’

পিএসজি কোচ লুই এনরিকেও প্রশংসা করেছেন প্রতিপক্ষের, ‘আমরা সমান শক্তির একটি ম্যাচ দেখলাম। পায়ে বল থাকলে কী করা যেতে পারে তা দুই দলই দেখিয়েছে। পার্থক্য হলো ওরা গোল পেয়েছে, আমরা পাইনি। আশা করি দ্বিতীয় লেগে আমাদের সমর্থকরাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেবে।’

এই ম্যাচে পিএসজি হারলেও ব্যবধানটা খুব বড় নয়। দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে যাওয়ার ভালো সুযোগ এখনো তাদের থাকছেই। সেই লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে নামবে তারা। ঘরের মাঠেই ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে আসরের পথচলা শুরু করেছিল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।

অন্য সেমিফাইনালে মঙ্গলবার রাতে বায়ার্নের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে ২-২ গোলে ড্র করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয় লেগে আগামী ৮ মে পিএসজি ডর্টমুন্ডকে ও পরের দিন রিয়াল বায়ার্নকে আতিথ্য দেবে। ওই ম্যাচেই নির্ধারণ হয়ে যাবে জুনের ফাইনালে উঠবে কোন সেরা দল দুটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত