কফিনবন্দি মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন স্বজনরা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৫:১৭ এএম

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে মারা যাওয়া আট বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েম ইমরান ও বিমানবন্দর থানা-পুলিশ মরদেহগুলো হস্তান্তর করে। এরপর কফিনবন্দি লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন স্বজনরা।

যাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে তারা হলেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া গ্রামের সজল বৈরাগী (২২), একই এলাকার কদমবাড়ি গ্রামের মৃত পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (১৮), সরমঙ্গল গ্রামের মামুন শেখ (২৪), কোদালিয়া গ্রামের কাজী সজীব (১৮), কেশরদিয়া গ্রামের তোতা খলিফার ছেলে কায়সার খলিফা (৩৫), গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর উপজেলার দাদন শেখের ছেলে রিফাত শেখ (২৪), একই এলাকার পদ্মপট্টি গ্রামের আবুল কাশেম শেখের ছেলে রাসেল শেখ (২৫) ও পান্নু শেখের ছেলে ইমরুল কায়েস আপন (২৩)।

মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আটটি মরদেহ বিমানবন্দরে আসে। সেখান থেকেই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফরেনসিকের চিকিৎসকের সামনে মরদেহবন্দি কফিন খুলে দেখা যায়, মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাই নতুন করে আবার ময়নাতদন্ত না করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআই আরও জানান, ৭ জনের নাম ও অজ্ঞাতনামা ১৫ জনকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় হত্যা ও মানব পাচারের মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে অথবা দেশে যারাই জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এসব মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ রাতে লিবিয়ার জুয়ারা উপকূল থেকে ইতালিতে যাওয়ার পথে ৫২ যাত্রী এবং একজন চালকসহ তাদের নৌকাটি তিউনিসিয়া উপকূলে ডুবে যায়। ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি ও পাকিস্তানের ৮, সিরিয়ার ৫ ও মিসরের ৪ জন। নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি ও অন্যজন পাকিস্তানের নাগরিক বলে শনাক্ত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত