মার্কিন নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পদত্যাগ করেছেন অভিজ্ঞ মার্কিন কূটনীতিক হালা রারিত। তিনিই প্রথম কূটনীতিক যিনি মার্কিন নীতির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনাও করেছেন তিনি।
এবার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পদত্যাগের কারণ জানালেন এই কূটনীতিক। এছাড়া মার্কিন কূটনীতিক হিসেবে তার কর্মজীবন ছেড়ে যাওয়ার কথা কখনোই আশা করেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রারিত জানান, “আমি উচ্চ পদে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমার ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ ইচ্ছা ছিল। আমার পদত্যাগ করার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু গাজায় ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন সরকারের নীতি দুর্ভাগ্যবশত সত্যিই সত্যিই পরিবর্তন করেছে।"
তিনি আরো বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখায় সেটি একটি মানবিক সংকট তৈরি করছে এবং আরব বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরে কূটনীতিকরা আনুষ্ঠানিক নীতিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতে ভয় পান। অথচ শক্তিশালী আলোচনাই সেখানে মূল আদর্শ হতে পারতো।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনা করা কঠিন কাজ। তিনি জানিয়েছেন, কুটনীতিকদের মধ্যে এর বেশি 'ভয় এবং অস্বস্তি' তিনি আগে কখনো দেখেননি। তিনি বলেছিলেন, তিনি আরব-আমেরিকান হওয়ার কারণে তার সহকর্মীরা তাকে ভিন্ন চোখে দেখত।
যদিও কিছু বিপরীত মতামত প্রশাসনের ভেতরে দেখা গেছে। অনেক কূটনীতিক প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই সরকারি নীতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভিন্নমত চ্যানেল ব্যবহার করেছেন।
রারিত জানান, তার পদত্যাগের খবরের পর থেকে অনেক সহকর্মী তার কাছে এসে বলেছিলেন, 'আমরা আপনার মতো ঠিক একইভাবে অনুভব করছি। আমরা শুধু বলতে পারিনি।'
কর্মজীবনে রারিত কাতারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, দক্ষিণ আফ্রিকার ভয়াবহ চরমপন্থা বন্ধ করার কাজে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি এবং ইয়েমেনে রাজনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
একজন মুখপাত্র হিসেবে, আরবিভাষী দর্শকদের কাছে গাজা যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন নীতি উপস্থাপন করার দায়িত্ব রারিতকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অক্টোবরের শুরুতে গাজা সম্পর্কে আরব সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলে কারণ তিনি অনুভব করেছিলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বললে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়ে আরো উত্তপ্ত হবে।
তিনি বলেন, "মার্কিন প্রশাসন প্রায়ই ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করত। প্রথম দিকে শুধু 'ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে' এটাই বলতো। হ্যাঁ, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার কোনো উল্লেখ ছিল না। আমার বিবেকের দংশন থেকে আমি আরব টেলিভিশনে কথা বলতে যেতে পারতাম না।"
গাজা নীতি সম্পর্কে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পরিবর্তে রারিত মার্কিন নীতির প্রচারণার ব্যাপারে অভ্যন্তরীণভাবে রিপোর্ট করার জন্য আরবি ভাষার সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা সহ তার অন্যান্য কাজগুলোতে মনোনিবেশ করেছিলেন।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এটিকে অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে তার পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, তিনি ভিন্নধর্মী মতামতকে স্বাগত জানান।
এছাড়া রারিতের পদত্যাগ সম্পর্কে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বিষয়টিকে অভ্যন্তরীণ বলে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সুদানে ঘাস-বাদামের খোসা খাচ্ছে ক্ষুধার্তরা
ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, ভেস্তে যেতে পারে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠান
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হতে হামাসকে সাত দিনের আল্টিমেটাম ইসরায়েলের