এই সরকার ভারত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত: কর্নেল অলি

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ব্যাংকের টাকা ঋণের নামে লুটপাট চলছে। ঋণের টাকা যারা নিচ্ছে তারা ফেরত দিচ্ছে না। যে যা লুট করছে তার তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করেনি। টাকা পাচারকারীদের কোনও তালিকাও প্রকাশ করেনি। অনেক ব্যাংকে নগদ টাকা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতিনিয়ত টাকা ধার করে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করছে তারা।

আজ শনিবার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এলডিপি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের অবস্থা খুবই করুণ। এর সঙ্গে সরকার দলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই জড়িত। টাকা পাচারকারী এবং লুটপাটকারীদের তথ্য ফাঁস হবে বিধায় বাংলাদেশ ব্যাংক অলিখিতভাবে সাংবাদিকদের প্রবেশধিকারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। টাকা পাচারকারী এবং ব্যাংক লুটপাটকারীদের শতকরা ৯০ শতাংশের বিদেশে ঘরবাড়ি করেছে।

তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম শুধু ঢাকায় দৈনিক ৫০০ জন মানুষ কুকুর, বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে, ভ্যাকসিন নাই। ডলার সংকটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিনিয়তই জনগণ সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। দুঃখের বিষয় সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়িচাপায় মানুষ মারা যাচ্ছে। শেয়ার মার্কেটে পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। শেয়ার মার্কেট দরবেশরা ইচ্ছা অনুযায়ী লুটপাট করছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সমালোচনা করে বলেন, তিনি স্বীকার করেছেন তিন বিদেশি শক্তি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে কাজ করেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, এই সরকার বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ২০০৮ সাল থেকে ভারত সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে। দেশ স্বাধীন হলেও বর্তমান সরকার স্বাধীন না। বর্তমান সরকার ভারত সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশের জনগণের চাওয়া অনুযায়ী স্বাধীনভাবে দেশ চালাতে হবে।

তিনি বলেন, আইএটিএ-এর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ। আইএটিএ ভুক্ত বিমান পরিবহন সংস্থাগুলির নিকট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার। এই পাওনা পরিশোধ না করলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানগুলো নামবে কিনা সন্দেহ আছে। গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানা বন্ধ। ফলে শ্রমিকেরা অনেকে বেতন পাচ্ছে না। ব্যাংকের দেনা পরিশোধ হচ্ছে না। যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, মালিকরা স্বর্বশান্ত হচ্ছে।

এ সময় তিনি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম গোপালগঞ্জের একজন নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৯০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছে। এ টাকাটা লুটপাট হয়েছে।  ইদানিং পত্রপত্রিকায় সরকারি দলের অনেক রাজনীতিবিদ এবং সরকারি  কর্মকর্তাদের ব্যাপক দুর্নীতির ব্যাপারে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সরকার এবং দুদক নিরব। জনগণ অসহায়। বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। সহসায় উদ্ধার হওয়া সম্ভবনা নাই। সুতরাং যুব সমাজকে এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণকে আবেদন করব দেশকে এই অসহনীয় অবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করুন। অন্যথায় দেশের অবস্থা আরো ভয়াবহ হতে পারে। যার দায় দায়িত্ব সবাইকে বহন করতে হবে।

দেশীয় উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করব দেশীয় গুণগত, মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে এগিয়ে আসুন। এতে করে বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। একে অপরের দিকে তাকিয়ে বসে থাকলে চলবে না বলেও জানান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত