গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে চুক্তি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম বার্নসের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। মিসরের রাজধানী কায়রোতে হতে যাচ্ছে এই বৈঠক। হামাসের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ওই বৈঠকে কায়রোতে একটি প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে তারা।
গাজায় ৭ অক্টোবর থেকে নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এ হামলায় ৩৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দারা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে আছেন। এর মধ্যে গাজার দক্ষিণাঞ্চলের শহর রাফায় হামলার তোড়জোড় শুরু করেছে ইসরায়েল। অবশ্য এর মধ্যেই দীর্ঘ মেয়াদে একটি যুদ্ধবিরতির আলোচনাও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে। প্রথম দফার যুদ্ধবিরতির মতো মিসর ও কাতার এবারও মধ্যস্থতা করছে। তবে এবার তাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আছে যুক্তরাষ্ট্রও।
মিসরীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম বার্নস কায়রোতে উপস্থিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার হামাস এ কথা জানিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হামাস ও সিআইএ কর্মকর্তারা শনিবার কায়রোতে মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা। তবে তারা পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করবেন না একত্রে, তা পরিষ্কার হয়নি বলে মিসরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। হামাস জানিয়েছে, একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবগুলো যাচাই করার পর তাদের প্রতিনিধিরা একটি ‘ইতিবাচক মনোভাব’ নিয়ে কায়রোতে যাচ্ছেন। এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটি বলেছে, ফিলিস্তিনিদের দাবি-দাওয়া পূরণ করবে এমন একটি চুক্তি করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের কিন্তু এখনো আরও বেশি কিছু শোনার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। রয়টার্স জানায়, সিআইএ তাদের পরিচালকের ভ্রমণের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ না করার নীতি মেনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। গত কয়েক মাস ধরেই যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। কিন্তু সিদ্ধান্তমূলক কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি হস্তান্তরে ইসরায়েলের দেওয়া প্রস্তাবে রাজি হতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে ইসরায়েল। অন্যথায় রাফায় আক্রমণের হুমকি দিয়েছে দখলদার দেশটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত হামাসের নেতাদের হাতে মিসরের তৈরি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছে। হামাসের কাছে দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ৪০ দিন যুদ্ধবিরতি দেওয়া হবে এবং এই সময়ের মধ্যে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এরপর দ্বিতীয় ধাপে অন্তত ছয় সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি থাকবে এবং আরও বেশি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। এরপর যদি দুই পক্ষের সম্মতিতে যুদ্ধবিরতি আরও এক বছর বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের গাজার উত্তরাঞ্চলে যেতে দেওয়া হবে কি না এ বিষয়টি নিয়েও চুক্তিটি ঝুলে আছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কোনো বাধা ছাড়াই গাজাবাসীকে উত্তরাঞ্চলে তাদের ঘরবাড়িতে ফিরতে দিতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে ইসরায়েলের আল্টিমেটামের কথা বলা হলেও কবে এটি দেওয়া হয়েছে তা জানানো হয়নি। মিসরের এক কর্মকর্তার শুক্রবারের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত ইসরায়েল সময় বেঁধে দিয়েছে।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে হামাসের যোদ্ধারা প্রায় ১২০০ জনকে হত্যা করেছে বলে ভাষ্য ইসরায়েলের। হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েল থেকে কয়েকজন বিদেশিসহ ২৫০ জনের মতো ইসরায়েলিকে ধরে নিয়ে গাজায় জিম্মি করে রাখে। তাদের মধ্যে বেশ কিছু জিম্মিকে মুক্তি দিলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসরায়েলি হামাসের হাতে বন্দি আছে।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় হামাসকে নির্মূল করার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এখনো তাদের লক্ষ্যে অটল আছে। গতকালও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
