উত্তর কোরিয়ায় তিন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করা সবচেয়ে প্রবীণ কর্মকর্তা কিম কি নাম মারা গেছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণে ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে কিম পরিবারের ঘনিষ্ঠ ওই নেতার।
বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ায় তিন প্রজন্ম ধরে শাসনক্ষমতায় থাকা নেতাদের সবার সঙ্গেই কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। নেতাদের রাজনৈতিক বৈধতা দৃঢ় করতে তাঁদের পক্ষে প্রচার চালানোর কাজ করে গেছেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কিম কি নামের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দেশের প্রতি অপরিসীম আনুগত্য দেখানো এ প্রবীণ বিপ্লবীর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
বর্তমান নেতা কিম জং উনের বাবা কিম জং ইলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন কিম কি নাম। ২০১১ সালে কিম ইল মারা যান।
উত্তর কোরিয়ার হাতে গোনা যে কয়েকজন কর্মকর্তা দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেছেন, কিম কি নাম ছিলেন তাদের একজন। ২০০৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম দে-জুংয়ের মৃত্যুর পর তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কিম কি নাম।
যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি কিম কি নামকে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর জোসেফ গোয়েবলসের সঙ্গে তুলনা করেছে।
উত্তর কোরিয়ায় কিম পরিবারের তিন প্রজন্মের শাসন টিকিয়ে রাখতে যেসব কর্মকর্তা অনুগত থেকে কাজ করে গেছেন, তাঁদেরই একজন কি নাম। তিনি উত্তর কোরিয়া সরকারের প্রচার বিভাগের (প্রপাগান্ডা মেশিন) সামনের সারির নেতা হয়ে ওঠেন।
১৯৬৬ সালে কিম কি নাম উত্তর কোরিয়ার প্রপাগান্ডাবিষয়ক উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৮৫ সালে কিম ইল সাংয়ের শাসনের সময়ে তিনি প্রপাগান্ডা প্রধান হন। ২০১৭ সালে তিনি অবসর নেন।
