মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নানার কবরে চির শায়িত পাইলট আসিম জাওয়াদ

আপডেট : ১০ মে ২০২৪, ০৫:৫৬ পিএম

নিহত পাইলট আসিম জাওয়াদের নানার কবরেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ মে) বিকেল ৩টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে মানিকগঞ্জের সেওতা কবরস্থানের নানা মো. আব্দুর রউফ খানের কবর পুনঃখনন করে তাকে শায়িত করা হয়। এ সময় আসিম জাওয়াদের বাবা, মা, স্ত্রী, দুই সন্তান, বিমান বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আসিম জাওয়াদের জানাযা শুক্রবার দুপুর ২ টায় অনুষ্ঠিত হয় শহীদ তপন মিরাজ স্টেডিয়ামে । এর আগে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার সদর দপ্তরে জানাযা শেষে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে আনা হয় এ স্টেডিয়ামে।

জানাযার আগে বক্তব্য রাখেন, নিহত আসিম জাওয়াদের বাবা ডা. আমানুল্লাহ, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিনসহ জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এবং বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

শহীদ তপন মিরাজ স্টেডিয়ামে নিহত পাইলট আসিম জাওয়াদ দেখতে আসা তারি এক সহপাঠী বলেন, ছোট বেলা থেকে আমারা একত্রে বড় হয়েছি। স্কুল থাকা অবস্থায় আসিম খুবই মেধাবী ছিল এবং খেলাধুলায় মনযোগী ছিল।

প্রতিবেশি শাকিলা বেগম বলেন, শহরের যে কোন মানুষকে দেখলেই তিনি কথা বলতেন, সবার সাথে ভাল ব্যবহার করত। আমাকে চাচি বলে ডাকত। আর মায়া মুখে চাচি বলে ডাকবে না।
নিহত পাইলট আসীম জাওয়াদ ছিল মিশুক টাইপের। ছুটিতে আসলেই সবার সাথে গল্পে মাততেন।

চাচাতো বোন শ্রাবনী বলেন, ওর স্বপ্ন ছিল পাইলট হয়ে দেশের সেবা করবে। কিন্তু অকাল মৃত্যুতে ওর পরিবারে কালো মেঘ নেমে আসল।

জানাযা নামাজ পড়তে আসা আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক বলেন, আসিম জাওয়াদ অত্যন্ত মেধাবী বিমান পাইলট ছিলেন। তার বিমানে আগুন লাগলে, তিনি লোকালয়ে প্যারাসুট করে নামতে পারতেন। কিন্তু তখন জানমালের ক্ষতির সম্ভবনা ছিল। পরে তিনি সাহসিকতার সাথে বিমানটি কর্ণফুলী নদীতে নিয়ে যান। জনসাধারণকে নিরাপদ রাখতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে গেলেন। তাই তার জানাযার নামাজ পড়তে এসেছি।

মানিকগঞ্জ খান বাহাদুর কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সাংবাদিক সাইফুদ্দিন নান্নু বলেন, আসিম জাওয়াদের অকাল মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত। মানিকগঞ্জবাসী এক সূর্য সন্তানকে হারাল। আর বিমান বাহিনীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

নিহত পাইলটের পিতা ডা. আমানুল্লাহ বলেন, শিশু অবস্থায় আসিম বিভিন্ন বিমান জাতীয় খেলনা কিন্ত। বাসায় বসে সে খুলে খুলে দেখত। প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল বিমান নিয়ে। সেই নেশায় জীবনে একটি মাত্র চাকরির পরীক্ষা দেয়। বিমান বাহিনীতে যোগদান করার পর বিমান বাহিনীর অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সকল প্রশিক্ষণেও সে প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে। পেয়েছে বিভিন্ন পুরুস্কার। আজ সে অকালে চলে গেলেও আমি ওর সম্মান দেখে সন্তুষ্ট। সকল বাহিনী আমার ছেলেকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ মে) দুপুর সাড় ১২টার দিকে পতেঙ্গার বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে (নেভি হাসপাতাল) পাইলট জাওয়াদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমান বাহিনীর ইয়াক-১৩০ নামক একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের অদূরে কর্ণফুলী নদীতে আছড়ে পড়ে। এতে আসিম জাওয়াদসহ আরো এক বৈমানিক ছিলেন। 

নিহত আসিম জাওয়াদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে। তার বাবা ডা. আমানুল্লাহ তার মা নিলুফা খানম সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা ছিলেন। এখন অবসরে গেছেন। তারা মানিকগঞ্জ শহরের গোল্ডেন টাওয়ারে নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। আসিম জাওয়াদ চাকরিসূত্রে স্ত্রী অন্তরা আক্তার ও দুই সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত