ইভান সাইরকে অনেকেই চেনেন রেডিও জলি হিসেবে আবার অনেকেই চেনেন উপস্থাপক হিসেবে। সাম্প্রতিক সময়ের নাটকের দর্শকরা তাকে চেনেন অভিনয়শিল্পী হিসেবে। কেননা বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। কাল ইভান সাইর চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে অভিষিক্ত হলেন। তার প্রথম সিনেমা ‘পটু’ মুক্তি পেয়েছে। চলচ্চিত্র ও বাইরের নানা বিষয় নিয়ে ইভানের সঙ্গে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন
স্বপ্ন পূরণ
পটু আর অপেক্ষা এই দুটো শব্দ আমার কাছে এক রকম হয়ে গিয়েছিল। ফাইনালি অভিষেকটা হলো। এই সিনেমা নিয়ে অপেক্ষা ছিল এক বছরের ওপরে। ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হলো না। ফাইনালি আমার সিনেমা মুক্তি পেল। এটা স্বপ্নের মতো ছিল, সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। এই অনুভূতি আমি বোঝাতে পারব না।
দুর্গম অঞ্চলে শুটিং
আমরা মাঝে মাঝে বলি না যে পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়া পৌঁছেনি। আমাদের শুটিং হয়েছে রাজশাহীর পদ্মার চর, ভারতের মুর্শিদাবাদ সীমান্তের চরখানপুরে। একটি দুর্গম অঞ্চল, এখানে আধুনিক ব্যবস্থা বলতে কিছুই নেই। সেই জায়গায় ২২ দিনের মতো তাঁবু করে থাকা, ওয়াশরুম বলেন বা যেসব সাধারণ সুবিধা, সেসবও ছিল না। রাত হলে এই অঞ্চল এতটাই নিঝুম হয়ে যায় যে ভূতের ভয়ও লাগে। একটা স্পট থেকে আরেকটা স্পটে যাওয়া, জিনিসপত্র বহন করে নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন ছিল। পুরো টিম কষ্ট করেছে।
যে কারণে দর্শক দেখবে...
পটু দর্শকরা দেখবে। একটি ভালো ছবি দেখতে চাইলে দেখবে। এটি একটি ক্রাইম থ্রিলারধর্মী সিনেমা। গল্প কীভাবে প্রবাহিত হচ্ছে, এটা ধারণা করা কঠিন হবে। খুব মেধাবী কেউ হলে ধারণার আশপাশ দিয়ে যেতে পারে। আর একটি সিনেমায় আমরা যেমন ফ্রেমিং কালার গ্রেডিং, ডিজাইন দেখি, এটা আন্তর্জাতিক মানের। আর যাকে ঘিরে গল্প, বাচ্চা ছেলেটা পটু; স্থানীয় অভিনেতা বা যারা নতুন, তাদের অভিনয় দুর্দান্ত এবং রয়েছে নতুনত্ব। মানুষ তো এই নতুনত্বই দেখতে পছন্দ করে। একই সঙ্গে লোকেশনের যে মজা, চোখের যে আরাম সেই মজাটা পাবে। পরিবারসহ একটি সুন্দর সময় কেটে যাবে বলতে পারি।
বুকের ভেতর ছিল অভিনয়
সত্যি কথা বলতে, আমি আসলে অভিনেতাই হতে চেয়েছি। অভিনয়ই করতে চেয়েছি। কিন্তু একটা সময় রেডিও জকি হয়ে গেছি। টেলিভিশনে উপস্থাপনা বা নাটক করেছি। তবে অভিনয়ের বাসনা সব সময়ই ছিল। যখন যে কাজটা করেছি, বুকে বহন করে গেছি অভিনয়। সেই জায়গা থেকেই নাটকে, সিনেমার ডাবিংয়ে এসেছি। একটা দীর্ঘ সময় পর অডিশন দিয়ে, লুক টেস্ট করে, নির্মাতার সঙ্গে বোঝাপড়া করে চলচ্চিত্রে চলে এসেছি। যেহেতু আমার পেশাগত অন্য জায়গা ছিল, সেই সবকেও মিস করি, করব।
যাদের অভিনয় ভালো লাগে
অভিনয় ভালো লাগত হুমায়ুন ফরীদির। তার অভিনয় এখনো দেখি ভিডিও প্ল্যাটফরমে। নায়ক আলমগীরের অভিনয় আমাকে টানে, তার অভিনয় আমি দেখি। অতিসম্প্রতি আমাকে টানে শাকিব খান। শাকিব ভাইয়ের অভিনয় আমি পছন্দ করি, আমার ভালো লাগে। নিশো ভাইয়ের অভিনয় ভালো লাগে, মোশাররফ করিম আমার ভীষণ ভালো লাগে। দেশের বাইরে আমার শাহরুখ খান, বিজয় থালাপাতি, দুলকার সালমান, আল্লু অর্জুন, টম হ্যাংকস তাদেরও আমার ভালো লাগে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রকে তারা দারুণভাবে ধারণ করতে পারেন।
এখন শুধু চলচ্চিত্র
অভিনয় নিয়ে এখন আমার পরিকল্পনা শুধু সিনেমা। ভালো সিনেমা করতে চাই। একটা ভালো সিনেমা করলাম। ভিন্ন ধরনের গল্প। এটা দেখে দর্শক কেমন সাড়া দেয়, সেটার অপেক্ষা রয়েছি। মিডিয়ার মানুষ, সিনেমার মানুষ কেমন পছন্দ করে, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। যেহেতু জার্নি একটা ছিল, বহুদূরের পথ পাড়ি দিতে হবে। আপাতত চিন্তা ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র, ভালো একটা টিম, ভালো চলচ্চিত্র। একটু বড় ক্যানভাসে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে। এখন সিনেমাকেন্দ্রিক কাজের জন্য সব মনোযোগ ও পরিশ্রম অব্যাহত থাকবে।
