রাজশাহীতে সাইবার নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রাজশাহীতে কর্মরত দেশ টিভির প্রতিবেদক কাজী শাহেদ ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে এই মামলা হয়। ‘মানহানিকর সংবাদ’ প্রকাশের অভিযোগে গতকাল শুক্রবার মামলা করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের শাহ মুখদুম থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল হক সুমন আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
বাদীর আইনজীবী জহুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৬ মে দেশ টিভিতে সাংবাদিক কাজী শাহেদের একটি সংবাদ প্রচার হয়। কাজী শাহেদ ও শামসুল আরেফিন মিলে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য দিয়ে সংবাদটি তৈরি করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগ করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে কাজী শাহেদ জানান, তাকে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে।
আরটিজেএর প্রতিবাদ : গতকাল রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন-আরটিজেএর সভাপতি মেহেদী হাসান শ্যামল ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে কাজী শাহেদ ওই সংবাদে অভিযোগকারীর বক্তব্য এবং সে অনুযায়ী বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য প্রচার করেছেন। তিনি নিজস্ব কোনো বক্তব্য প্রচার বা মতামত দেননি। অভিযোগকারী শামসুল আরেফিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় করা জিডি/অভিযোগের কাগজ ও অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে সংবাদ করেন কাজী শাহেদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সংবাদ প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে সরকার নির্ধারিত প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করা যাবে। এতে প্রতিকার না পেলে আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান। টেলিভিশনে প্রচারিত কোনো সংবাদে টিভি রিপোর্টারের নিজস্ব কোনো বক্তব্য প্রচারের সুযোগ থাকে না। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৯/৩১/৩৫ ধারায় মামলা দায়ের প্রকৃত আইনের অপব্যবহার, যা না করার ব্যাপারে সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে।’
